মা করোনায় আক্রান্ত হলেও বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন

June 14, 2020, 12:43 PM, Hits: 330

মা করোনায় আক্রান্ত হলেও বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন

হ-বাংলা নিউজ : মা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলেও সন্তানকে বুকের দুধ দিয়ে যেতে হবে। কিছুতেই মা ও সন্তানকে আলাদা করা উচিত হবে না। করোনার ঝুঁকির চেয়ে সন্তানকে বুকের দুধ দেওয়ার মধ্যে লাভ অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গত শুক্রবার অনলাইন ব্রিফিংয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এসব কথা বলেন। তিনি এ সময় বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় করোনা মহামারির প্রকোপ বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এসব দেশে নারী, শিশু ও কিশোরীদের নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। এই মানুষগুলো সাধারণ অবস্থাতেই চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পায় অপেক্ষাকৃত কম।

তেদরোস আধানোম বলেন, বুকের দুধ দিলে কোভিড-১৯ আক্রান্ত মায়ের থেকে সন্তান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয় কি না, তা জানতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কতার সঙ্গে অনুসন্ধান চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি যে শিশুরা অপেক্ষাকৃত করোনার ঝুঁকিতে কম রয়েছে। তবে তাদের অন্য আরও অনেক রোগ ও জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি, যা বুকের দুধ ঠেকিয়ে দিতে পারে।’ তিনি বলেন, প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে করোনার ঝুঁকির চেয়ে সন্তানকে বুকের দুধ দেওয়ার মধ্যে লাভ অনেক বেশি। সন্দেহভাজন করোনা সংক্রমিত মা কিংবা করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া মায়েদের সন্তানকে বুকের দুধ দেওয়া উচিত। তাঁদের সন্তানদের থেকে আলাদা করা উচিত নয় মোটেই, যদি না মা খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, নারী, শিশু ও কিশোরীদের ওপর করোনা মহামারির পরোক্ষ প্রভাব এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যার চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। করোনার প্রকোপ বাড়ায় অনেক জায়গায়ই স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গর্ভকালীন ও সন্তান প্রসবকালীন জটিলতায় নারীদের মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। কিশোর ও তরুণদের ওপর করোনা মহামারির প্রভাব নিয়েও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উদ্বিগ্ন বলে উল্লেখ করেন তেদরোস আধানোম। তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত বলছে কিশোর ও ২০-এর কোঠার তরুণ বয়সীরা এই সংকটকালে হতাশা ও উদ্বেগ, অনলাইনে হয়রানি, শারীরিক ও যৌন হয়রানি এবং অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর বিপরীতে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে তাদের। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়ও কিশোর-তরুণ বয়সীরা সেবা পাচ্ছে না। কিছু দেশে এক-তৃতীয়াংশের বেশি কিশোর বয়সী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মানসিক স্বাস্থ্য জটিলতার সেবা পেয়ে থাকে। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় খাদ্য কর্মসূচির আওতায় কোটি শিশু খাবার পাচ্ছে না।

তেদরোস আধানোম এদিন সবাইকে সক্রিয় ও পুষ্টিকর খাবার খেয়ে নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি এবং তামাক, অ্যালকোহল ও মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধিও তরুণ বয়সীদের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘ মেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ