পাকিস্তান যেখানে সবচেয়ে পিছিয়ে

May 22, 2020, 11:23 AM, Hits: 111

 পাকিস্তান যেখানে সবচেয়ে পিছিয়ে

হ-বাংলা নিউজ : লেজের ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গোটা কয়েক রান করলেই চলবে। এক সময় উইকেটরক্ষকদের নিয়ে দলগুলোর চিন্তা ভাবনা ছিল এমন। ক্রিকেট তখনো এত ব্যাটিংবান্ধব হয়নি। ফলে বোলিং আক্রমণ সামলাতে উইকেটের পেছনে দক্ষতাই বেশি গুরুত্ব পেত দলগুলোর কাছে। যুগ বদলে এখন ব্যাটিংটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সবার কাছে।

টেস্টে তবু উইকেটরক্ষকদের ভাগ্য খুব একটা বদলায়নি। এখনো রান তোলার ক্ষেত্রে উইকেটরক্ষকের ওপর খুব একটা ভরসা রাখে না কেউ। বিশ্বাস না হলে মহেন্দ্র সিং ধোনির কথাই ভাবুন না। একটা পুরো দশক ভারত দলের উইকেট সামলেছেন, দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, দলকে টেস্টে র‍্যাঙ্কিং শ্রেষ্ঠত্ব এনে দিয়েছেন। দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন তিনি। সেই ধোনির টেস্টে সেঞ্চুরি মাত্র ৬টি। ৯০টি টেস্ট খেলার পরও।

এ চিত্র সব ক্ষেত্রেই। এ কারণেই উইকেটরক্ষক হিসেবে খেলেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের সর্বোচ্চ রানের চূড়াটা মাত্র ৫ হাজার ৫৭০ রান। উইকেটরক্ষক হিসেবে টেস্টে পাঁচ হাজারের বেশি রান তুলেছেনই আর মাত্র একজন। এভাবে প্রতিটি দেশের সেরা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের তালিকা করতে গিয়ে একটি মজার দিক খুঁজে পাওয়া যায়। নবম ও দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হলেও সেরা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানদের খোঁজে এ দুই দেশ খুব একটা পিছিয়ে নেই। ওদিকে প্রায় সাত দশক অভিজাত শ্রেণির সদস্য হলেও পাকিস্তানের উইকেটরক্ষকদের অবস্থা বেশ মলিন।

পাকিস্তানের উইকেটরক্ষকদের ভাবনায় কামরান আকমলের নামই মাথায় আসে। প্রায়ই গুরুত্বপূর্ন সময়ে ভুল করার পরও দীর্ঘদিন দলে জায়গা ধরে রেখেছিলেন আকমল, শুধুমাত্র ব্যাটিংয়ের কারণেই। কিন্তু টেস্টে পাকিস্তানের সবচেয়ে বেশি রান তোলা উইকেটরক্ষক হতে পারেননি। মাত্র কয়েকবছর আগে দলে জায়গা নিশ্চিত করা সরফরাজ আহমেদই পাকিস্তানের সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক উইকেটরক্ষক। টেস্টে মাত্র ৩ সেঞ্চুরি করা সাবেক অধিনায়ক মাত্র দুই হাজার ৬৫৭ রান করেই এই কীর্তি গড়ে ফেলেছেন।


সবার শীর্ষে যে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট আছেন সেটা বোঝাই যায়। উইকেটরক্ষকদের অলরাউন্ডার হিসেবে ভাবার চিন্তাটা যে তাঁর সুবাদেই এসেছে। উইকেটরক্ষকের গ্লাভস পরেও ব্যাটসম্যানের মতো রান তোলায় তাঁর ধারে কাছে কেউ নেই। তবু ৯৬ টেস্টে মাত্র ৫ হাজার ৫৭০ রান দেখে ভুল বুঝতে পারেন অনেকে। এতে গিলক্রিস্টের কোনো দায় নেই। এমন এক দলে খেলেছেন যে ৯৬ টেস্টে মাত্র ১৩৭ বার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন। গিলক্রিস্টের কারণেই কিপিংয়ে অসাধারণ হয়েও ইয়ান হিলি আর রডনি মার্শরা অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সেরা দলে জায়গা পান না।

গিলক্রিস্টের চেয়ে মাত্র ৪৫ রান কম করে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা মার্ক বাউচার। তবে তাঁর এই রান তুলতে খেলতে হয়েছে ১৪৭ টেস্ট কিংবা ২০৬ ইনিংস। সেঞ্চুরিও গিলক্রিস্টের (১৭) তিনভাগেরও কম, ৫টি। এর পরই আছেন ধোনি। উইকেটরক্ষক হিসেবে ৯০ টেস্টে ৪ হাজার ৮৭৬ রান করেছেন, এটাই অবশ্য তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ রান তোলা উইকেটরক্ষক হিসেবে টিকিয়ে রাখবে বহুদিন; যদি না ঋষভ পন্ত নিজেকে বদলে ফেলতে পারেন।

এর পরের জন অবশ্য দলের মূল ব্যাটসম্যানদের একজন বলেই গন্য হতেন। ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব, আর উইকেট্ক্ষকের দায়িত্ব মিলে রান তোলায় খুব একটা মন দিতে পারেননি। তাই গ্লাভস নিয়ে যে কয় ম্যাচে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়েছেন, সেই ৮২ টেস্টে মাত্র ৬ সেঞ্চুরি আর ৪৫৪০ রান অ্যালেক স্টুয়ার্টের। জনি বেয়ারস্টো যেভাবে রান বন্যা বইয়েছিলেন সেটা আরও কিছুদিন ধরে রাখতে পারলে স্টুয়ার্টের রেকর্ড আর বেশিদিন নিরাপদ থাকবে না।

পরের দুজন নিজের দলের মূল ব্যাটসম্যান, সঙ্গে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসও পরেছেন। জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের গড় ছিল ঈর্ষনীয়। একজন উইকেটরক্ষকের পক্ষে ৫৩.৭০ গড়ে রান তোলা যে সম্ভব হতে পারে, সেটা এখনো অভাবনীয়। মজার ব্যাপার ৮টি টেস্টে উইকেটরক্ষক হিসেবে নামেননি ফ্লাওয়ার। সে ম্যাচগুলোতে তাঁর গড় আরও কমেছে। এমনকি ক্যারিয়ারের ১২টি সেঞ্চুরির সবই ছিল উইকেটরক্ষক হিসেবে নামা ৫৫ ম্যাচে। রবার্ট মুগাবের বিরুদ্ধে কথা না বললে হয়তো টেস্ট ক্যারিয়ার আরও লম্বা হতে পারত তাঁর।


মুশফিকুর রহিমের পক্ষেই হয়তো সম্ভব ছিল উইকেটরক্ষক হিসেবে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটা গিলক্রিস্টের কাছ থেকে একদিন বুঝে নেওয়া। তবে ব্যাটসম্যান মুশফিকের সর্বোচ্চ পাওয়ার জন্য এখন দলে অন্যদের উইকেটরক্ষক হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। ফলে উইকেটরক্ষক মুশফিকের রানটাও ৩ হাজার ৫১৫তে থেমে যেতে পারে। যদিও উইকেটরক্ষক হিসেবে ৬ সেঞ্চুরি পাওয়া মুশফিক বলতেই পারেন ওই ভূমিকাতেই তো রান বেশি আমার। কিপিং গ্লাভস ছাড়া খেলা ১৫ ম্যাচের গড়ও সে স্বাক্ষ্য দেবে।


নিউজিল্যান্ডের উইকেটক্ষকদের গল্পটাও পাকিস্তানের মতো। প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাসে তাদের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানকে দেখা যাচ্ছে বর্তমান দলে। দল বিপদে পড়লে অবিশ্বাস্য দৃঢ়তা দেখানোর ক্ষমতা রাখা বিজে ওয়াটলিং ৭ সেঞ্চুরি আর ৩ হাজার ২৬৬ রানেই মুকুট বুঝে নিয়েছেন। এখানে একটা ফুটনোট থাকা ভালো, সুযোগ থাকলেও ব্রান্ডন ম্যাককালাম শেষ দিকে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন বলেই ওয়াটলিংয়ের এমন উত্থান। 


ম্যাককালামের মতোই নিজের ব্যাটিং ক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার জন্য কিপিং গ্লাভস তুলে রেখেছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। তাতে শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, ক্রিকেট বিশ্বেরই লাভ হয়েছে। ৭ সেঞ্চুরি ও ৪০.৪৮ গড়ে ৩ হাজার ১১৭ রান তোলা সাঙ্গাকারা আর ৩১ সেঞ্চুরি ও ৬৬.৭৮ গড়ে তোলা ৯ হাজার ২৮৩ রানের পার্থক্য বুঝতে ক্রিকেট বিশ্লেষকও হতে হয় না।


উইকেটরক্ষক হিসেবে সাঙ্গাকারার চেয়ে ২৯ রান বেশি করে জেফরি ডুজন এ তালিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধি। ৭৯ টেস্টে কিপিং করা ডুজনের রেকর্ড ভাঙার খুব কাছাকাছি ছিলেন দিনেশ রামদিন। কিন্তু গত চার বছরে টেস্ট না খেলায় ২৫৮ রানের পার্থক্যটা আর ঘুচবে না। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ