এখনই সময় নিজেকে প্রস্তুত করার করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে পিপলএনটেকের বিশেষ কোর্স

March 22, 2020, 11:01 AM, Hits: 228

এখনই সময় নিজেকে প্রস্তুত করার করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে পিপলএনটেকের বিশেষ কোর্স

হ-বাংলা নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : করোনা ভাইরাস আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জরুরি অবস্থা চলছে। বাড়ির বাইরে বেরোতে পারছেন না অনেকে। স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, রেস্টুরেন্টসহ সব কিছু বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় দ্বৈনন্দিন কাজ ফেলে বাড়িতে অবস্থান করছেন অসংখ্য বাংলাদেশি। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ভাল বেতনের চাকরির সুযোগ করে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বৃহৎ বাংলাদেশি আইটি প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেক। প্রতিষ্ঠানটি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে অনলাইনে বিশেষ কোর্স অফার করেছে। গত ১৪ মার্চ ভার্জিনিয়ায় ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে এ কোর্স ঘোষণা করা হয়। অনলাইনে লাইভ ইন্টারেক্টিভ এই কোর্সটি নেতৃত্ব দেবেন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা।

অনুষ্ঠানে পিপলএনটেকের প্রেসিডেন্ট ফারহানা হানিপ, ডিরেক্টর সৈয়দ সিদ্দিক হোসেন ছাড়াও অনলাইনে নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া ও আটলান্টিক সিটি ক্যাম্পাসের কর্মকর্তা, শিক্ষক, কাউন্সিলর এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অনলাইনে ওরিয়েন্টেশন প্রোগামে অংশ নেন। আগামী ৪ এপ্রিল থেকে এ কোর্স শুরু হবে। ওরিয়েন্টেশনে জানানো হয়, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ৩১ মার্চের মধ্যে এককালীন ফি জমা দিলে আরও অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন শিক্ষার্থীরা।

কিউএ সফটওয়্যার টেস্টিংয়ের সেলেনিয়াম অটোমেশন কোর্সের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কোর্সের যাবতীয় বিবরণ ও পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি আগামী চারমাসে কিভাবে তারা ক্লাস করবেন, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ওরিয়েন্টেশনে কোর্সের শিক্ষক, কাউন্সিলর ও শিক্ষার্থীরা পরস্পরের সাথে পরিচিত হন। পিপলএনটেকের চারটি ক্যাম্পাস ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি স্টেট থেকে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে অংশ নেন। তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পিপলএনটেকের কর্মকর্তা ও শিক্ষক, কাউন্সিলররা। প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যারা ইতোমধ্যে জব মার্কেটে রয়েছেন, ভাল বেতনে চাকরি করছেন ওরিয়েন্টেশনে তারাও বক্তব্য রাখেন এবং নতুন শিক্ষার্থীদেরকে তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

পিপলএনটেকের প্রেসিডেন্ট ফারহানা হানিপ বলেন, আমরা সবাই একটা ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছি। সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অনেকে বাড়িতে বসে কাজ করছেন। এ অবস্থায় আমরা অনলাইনে বিশেষ কোর্স অফার করছি। এতে করে যারা বাড়িতে বসে থাকবেন তারা অনায়সে অনলাইনে এই কোর্স করতে পারবেন। তিনি বলেন, এখনই সময় নিজেকে প্রস্তুত করার। মাত্র চার মাসে এই কোর্সটি সম্পন্ন করে প্রায় সবাই ৮০ হাজার থেকে দেড়-দুই লাখ ডলার বেতনে চাকরি পাচ্ছেন বলে জানান ফারহানা হানিপ।

পিপলএনটেকের ডিরেক্টর সৈয়দ সিদ্দিক হোসেন জানান, আমরা অনলাইন কোর্সের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা জারি এবং দশ জনের অধিক জনসমাগম নিষিদ্ধ করায় আমরা প্রতিটি ক্যাম্পাসে ফিজিক্যাল ক্লাস বন্ধ রেখেছি। কিন্তু পাশপাশি অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করেছি। যাতে শিক্ষার্থীদের কোনো অসুবিধা না হয়। তিনি বলেন, কখনো কখনো খারাপ সময়ের মধ্যে ভাল কিছু করার সুযোগ আসে। এ কথাটি চিন্তা করে আমার বিশেষ অনলাইন কোর্সটি চালু করেছি। ফলে করোনা পরিস্থতিতে যারা বাসায় বসে আছেন, ফ্রি সময় কাটাচ্ছেন তারা ইচ্ছা করলে এ সময়টায় আইটি প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের উন্নত জীবন গড়ে তুলতে পারেন।

প্রসঙ্গত, সোনার হরিণ হাতে পাবার স্বপ্ন নিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রতি বছর আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেন। কিন্তু তাদের অনেকের কাছেই স্বপ্নের সেই সোনার হরিণ ধরা দেয় না। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিপলএনটেকের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিফ বলেন, সোনার হরিণ এখন আর স্বপ্ন নয়। পিপলএনটেক সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, আগে যুক্তরাষ্ট্রের আইটি প্রতিষ্ঠানে স্বল্প সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত ছিলেন যাদের প্রত্যেকেই বাংলাদেশ বা যুক্তরাষ্ট্রে আইটিতে স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রিপ্রাপ্ত। কম্পিউটার সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং বা আইটি ডিগ্রি ছাড়াও মেধা, যোগ্যতা ও অধ্যবসায় দিয়ে আমেরিকায় যে আইটিতে জব পাওয়া সম্ভব সেটাই প্রমাণ করেছে পিপলএনটেক। আইটিতে পিপলএনটেক পুরোনো ধ্যান-ধারণা পাল্টে দিয়েছে। মাত্র চার মাসের প্রশিক্ষণ শেষে একজন বাংলাদেশি বছরে ৮০ হাজার থেকে দেড়-দুই লাখ ডলার বেতনে চাকরি পাচ্ছেন। তিনি জানান, পিপলএনটেক গত ১৫ বছরে ৬ হাজার বাংলাদেশিকে চাকরি পেতে সহায়তা করেছে। 

আবুবকর হানিপ জানান, পিপলএনটেকের প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি প্রাপ্তির সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে, কেননা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী আনার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিচ্ছে। সেই সাথে পিপলএনটেক আপডেটেড কারিক্যুলামে সেলেনিয়াম, কিউটিপি/ইউএফটি, ডাটাবেইজ এডমিনিস্ট্রেশন, ডেভঅফস, ফ্রন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট এই পাঁচ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চাকরিপ্রাপ্তির হার যেকোনো সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। পিপলএনটেকের প্রশিক্ষণ শেষে যেখানে গড়ে প্রতিমাসে ২০ জন শিক্ষার্থী চাকরি পেতেন সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে ৪০ থেকে ৫০ জনে উন্নীত হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রে আইটি ক্ষেত্রে চাকরির বাজারের এই সুযোগকে কাজে লাগাতে প্রকৌশলী আবু হানিপ বিভিন্ন স্থানে জব সেমিনারের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের উদ্বুদ্ধ করে চলেছেন। তারই অংশ হিসেবে করোনা ভাইরাস নিয়ে বৈশ্বিক বিপর্যয়ের মধ্যেও সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক আইটি কোর্স চালু করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে পিপলএনটেক।

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ