আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি

December 8, 2019, 12:05 PM, Hits: 177

 আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি

হ-বাংলা নিউজ : কয়েক দিন ধরেই কমছে দেশের সর্বোত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের সর্বোত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা। তবে কয়েক দিন ধরেই দিন–রাতের তাপমাত্রার মধ্যে থাকছে পার্থক্য। রাতভর হিমেল বাতাসে তাপমাত্রা কমে গেলেও ভোরের সূর্য ওঠার পর মিলছে ঝলমলে রোদের দেখা। কমে গেছে কুয়াশার দাপট।

আজ রোববার সকালে (সকাল নয়টা) তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের মধ্যে এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানান আবহাওয়াবিদেরা। তবে একই দিনে বেলা তিনটায় তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এভাবেই দিন দিন পঞ্চগড়ে জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। প্রতিদিন বিকেলে শুরু হওয়া উত্তরের হিমেল বাতাসে ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করছে তাপমাত্রা। তবে দিনের তুলনায় রাতে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ঝলমলে রোদের কারণে দিনের বেলা বাড়ে উষ্ণতা।

সাইবেরিয়া থেকে প্রবাহিত হিমেল বাতাস হিমালয়ের কোল ঘেঁষে তেঁতুলিয়ার দিকে আসা, দিন ও রাতের সময়ের ব্যবধান এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা এভাবে ওঠানামা করছে বলে অভিমত পরিবেশবিদদের।

অন্যদিকে, আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, বাতাস কম হলে কুয়াশার পরিমাণ বাড়ে। এতে তাপমাত্রাও বেশি থাকে। আর উত্তরের হিমেল বাতাস থাকলে কুয়াশার পরিমাণ কমে যায়। এতে রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়তে থাকে শীতের তীব্রতা এবং কমে যায় তাপমাত্রা। তবে দিনের ঝলমলে রোদ হিমেল বাতাসের কারণে খুব বেশি উষ্ণতার সৃষ্টি করতে পারে না। পঞ্চগড় হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় সেদিক থেকেই এমন হিমেল বাতাস আসে বলে জানান তাঁরা। এ জন্য অন্যান্য জেলার চেয়ে অনেক আগেই শীত নামে পঞ্চগড়ে। এ ছাড়া অন্যান্য জেলার তুলনায় শীতের তীব্রতাও থাকে বেশি। এর স্থায়ীত্বও থাকে বেশি দিন।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

এর আগে ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্র ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে তেঁতুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বিকেলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বিকেলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বিকেলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এর আগে ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর তেঁতুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৬ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৭ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৮ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর তেঁতুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৬ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৭ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৮ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিন ধরেই তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা অনেকটা উঠানামা করছে। কুয়াশার পরিমাণ কম থাকলেও রাতের ঝিরিঝিরি বাতাসে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। উত্তরে হিমালয় খুব কাছাকাছি হওয়ায় সেদিক থেকেই আসছে হিমেল বাতাস। এ জন্য ক্রমেই রাতের তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। সকাল হলে ঝলমলে রোদ দেখা গেলেও বাতাস কমবেশি থাকছেই। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পূর্বাভাসকেন্দ্রের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এ মাসে (ডিসেম্বর) ক্রমান্বয়ে রাতের তাপমাত্রা কমবে এবং এ মাসের শেষের দিকে দুই থেকে তিনটি মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, পঞ্চগড় দেশের সর্বোত্তরের জেলা হওয়ায় এখানে শীতের প্রকোপ কিছুটা বেশি থাকে। ইতিমধ্যে শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা প্রশাসন থেকে জেলার পাঁচটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে ২৮ হাজার কম্বল বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ