বাঁচতে শেখাচ্ছে ‘মৃত্যুর অভিনয়’

November 17, 2019, 1:58 PM, Hits: 144

 বাঁচতে শেখাচ্ছে ‘মৃত্যুর অভিনয়’

হ-বাংলা নিউজ : জীবনের পাঠ নিতে হলে, জানতে হলে মৃত্যুর ভেতর দিয়ে যেতে হবে! এ কেমন কথা? হুমম, কথা সত্যি। তবে এই মৃত্যু ঠিক মৃত্যু নয়। মৃত্যু বা শেষকৃত্যের অভিনয়। এমন মৃত্যুর ভানের ভেতর দিয়েই জীবনের পাঠ দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি হিলিং সংস্থা।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিউলের হিউন হিলিং সেন্টার ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংস্থাটি ‘জীবন্ত শেষকৃত্য’-এর গণআয়োজন করে। এই ‘জীবন্ত শেষকৃত্য’ই হচ্ছে কফিনের ভেতর শুয়ে মৃত্যুর ভান ধরে থাকা। শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ ‘জীবন্ত শেষকৃত্য’ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। সম্প্রতি এই আয়োজনটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সংস্থাটি এই প্রকল্পের নাম দিয়েছে ‘ডাইং ওয়েল’ বা ‘শান্তিতে মৃত্যু’।

এই ‘জীবন্ত শেষকৃত্যে’ তরুণ থেকে অবসরপ্রাপ্তরাও অংশ নিয়ে থাকেন। কেউ কাফন দিয়ে নিজের দেহ আচ্ছাদিত করে মৃত্যুচিন্তা করেন, কেউ নিজের এপিটাফ লেখেন আবার কেউ বন্ধ কফিনে ঢুকে শুয়ে থাকেন ১০ মিনিট।

এই প্রকল্পে সম্প্রতি অংশ নেওয়াদের একজন ৭৫ বছর বয়সী চো জায় হি। তিনি বলেন, ‘যদি মৃত্যু চিন্তা নিজের ভেতর জাগ্রত করা যায় এবং সেই অভিজ্ঞতা যদি পাওয়া যায়, তাহলে আপনি জীবনকে নতুন করে বুঝতে পারবেন।’

এই প্রকল্পে অংশ নিয়েছেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ২৮ বছর বয়সী চোই জিন-কিউ। তিনি বলেন, আগে সবাইকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হতো। এই প্রকল্পে এসে ১০ মিনিট কফিনে বন্দী থাকার পর বুঝতে পারলাম, ওসব আসলে কিছুই না। এখন পরিকল্পনা করছি গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে চাকরির পেছনে ছুটব না। বরং নিজ উদ্যোগে ব্যবসা করব।’

আসান মেডিকেল সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ইয়ু ইউন সিল মৃত্যু নিয়ে একটি বই লিখেছেন। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই মৃত্যু বিষয়ে জানা ও মৃত্যুর প্রস্তুতি নেওয়া খুব জরুরি।’ 

হিউন হিলিং সেন্টারের প্রধান জেয়ং ইয়ং-মুন বলেন, এই প্রকল্প নিজের জীবনকে ইতিবাচকভাবে উপলব্ধির পাশাপাশি ত্যাগ ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলেমিশে জীবনকে উপভোগ করা শেখায়। 

জেয়ং ইয়ং-মুন বলেন, যখন কোনো আত্মীয়ের মৃত্যু হয় তখন শেষকৃত্যে শোক ভাগ করে নিতে পরিবারের সবাই মিলিত হয়। কিন্তু এই এক হওয়ার জন্য মৃত্যু জরুরি নয়। আবার মৃত্যু না হলে পুনর্মিলনও হয় না। এ কারণে মনে হয়েছিল, মৃত্যুর আবহ সৃষ্টি করাটা জরুরি। তাতে সহজে এসব বিষয় উপলব্ধি করা যায়। বাকি জীবন শান্তিতে কাটানোর এটি একটা উপায় হতে পারে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রক্রিয়ায় জেয়ং ইয়ং-মুন অনেককে নিশ্চিত আত্মহত্যার মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন।

জেয়ং বলেন, যারা আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার পর অনেক ভালো লাগে। আর এই প্রকল্পটা মূলত সেই সব মানুষের জন্যই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় আত্মহত্যার হার প্রতি লাখে ২০ দশমিক ২ জন। যা সারা বিশ্বে আত্মহত্যার গড় হারের প্রায় দ্বিগুণ। সারা বিশ্বে এই হার ১০ দশমিক ৫৩ জন।

এ ছাড়া অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের বেটার লাইফ সূচকে ৪০ সুখী দেশের তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান ছিল ৩৩। কোরিয়ার অসংখ্য তরুণ এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে পড়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আর এমন হতাশা থেকে মুক্তি পেতেই নানা পদ্ধতি অবলম্বন করছে কোরীয়রা। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ