চাঁদের হাটঃ স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে যাই

November 15, 2019, 1:36 PM, Hits: 204

চাঁদের হাটঃ স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে যাই

সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী, হ-বাংলা নিউজ : আমার জীবনের শ্রেষ্ট সময় কেটেছে প্রিয় সংঠন চাঁদের হাট ও ছড়া পরিষদ নিয়ে। সিলেটে চাঁদের হাটে জড়িয়ে যাই ১৯৮২ সালে ও ছড়া পরিষদ সিলেট গঠন করি ১৯৮৪ সালে। আমার আরও প্রাণের সংগঠন সিলেট সাহিত্য পরিষদ গঠন করি ১৯৯৮ সালে ও স্বদেশ ফোরাম, নিউইয়র্ক গঠন করি ২০০৮ সালে। এ সব সংগঠন ভালোবাসার বাঁধনে বেঁধে রেখেছে নিরন্তর আমার অন্তর-মন-প্রাণ। আমার সময় কাটে আনন্দের ভেলায়, সুন্দরের- কল্যাণের পথে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে থাকতে চায় মন সব সময়। সে এক অন্য রকম সুখ-শান্তি।

লেখালেখি ও সংগঠন নিয়ে মেতে উঠি মনের আনন্দে ১৯৭৪ সাল থেকে। ধোপাদীঘির পাড় শাপলা কুঁড়ির আসর সংগঠন গঠন করে সাংগঠনিক কাজ শুরু করি। এক সময় ঢাকা থেকে বের হয় কিশোর বাংলা। কিশোর বাংলায় লেখালখি শুরু হয়। কিশোর সংবাদদাতা হিসেবে ছাপা হয় সিলেটের সংবাদ। পরিচয় হয় প্রখ্যাত ছড়াকার ও সাংবাদিক রফিকুল হক দাদুভাইয়ের সাথে। তিনি কিশোর বাংলার সম্পাদক। দাদু ভাই জাতীয় শিশু কিশোর ও যুব কল্যাণ সংগঠন চাঁদের হাটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। ঢাকায় গেলে দাদু ভাইর সাথে কিশোর বাংলায় অনেক আলাপ ও অন্তরঙ্গ আড্ডা হয়। দাদু ভাই সিলেটে চাঁদের হাট সিলেট শাখা পুর্ণগঠনের জন্য চাঁদের হাটে যোগদান করতে আহŸান জানান। তিনি চাঁদের হাটকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমাকে ভীষণ ভাবে উদুদ্ধ করেন, তাঁর প্রতি বেড়ে যায় শ্রদ্ধা। কিশোর বাংলায় দেখা হয় শিশু সাহিত্যিক আলী ইমাম,অভিনেতা আফজল হোসেন,ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, ছড়াকার আমীরুল ইসলাম সহ অনেকের সাথে। সিলেট চলে আসার পরও দাদু ভাই ফোনে আলাপে ও চিঠির মাধ্যমে চাঁদের হাট সিলেট শাখা পুর্ণ গঠনের তাগিদ দেন। আমি ১৯৮২ সালের এক বিকেলে সভার মাধ্যমে চাঁদের হাট সিলেট শাখার আহŸায়ক হিসেবে সাংগঠনিক কাজ শুরু করি। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। আয়োজন হয় সাহিত্য সভা, কবিতা উৎসব, রবীন্দ্র-নজরুল জন্ম জয়ন্তী, জাতীয় দিবস উদযাপন, ঈদ, বিজয়, একুশ, স্বাধীনতা, বৈশাখে অনুষ্ঠানের আয়োজন, সাহিত্য-সংস্কৃতি উৎসব সহ নানা ধরনের অনুষ্ঠান। এভাবে চাঁদের হাট সিলেট শাখা সুনামের সাথে এগিয়ে যায়। শিশু একাডেমী সিলেট শাখা আয়োজিত শিশু মেলায় অংশ নিয়ে পায় পুরস্কার।

দাদু ভাই সহ কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজন হয় জমজমাট অনুষ্ঠান।সেই অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের খাবারের আয়োজন হয় আমার বাসায়।আমার মায়ের সে কি আন্তরিক আপ্যায়ণের আয়োজন। ছড়া পরিষদ,সিলেট আয়োজিত আমার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাদু ভাই উপস্থিহত হয়ে সারপ্রাইজ দেন তা আজও মনে পড়ে। হাসোজ্জল দাদু ভাই আমাদের কাছে চির সবুজ। আমাদের চলার পথে প্রেরণা। চাঁদের হাটের প্রাণ পুরুষ আমাদের প্রিয় দাদুভাই।

আমাদের বুকের ভালোবাসার নাম চাঁদের হাট। চাঁদের হাট একটি মিষ্টি পরিবার। আমরা সুন্দর হবো। দেশের মাটি সবচেয়ে খাঁটি। চাঁদের হাটের সুন্দর দিনগুলো আজও মনে কড়া নাড়ায়। আমি স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে যাই। আমার মন দুলে ওঠে ভালোবাসায়। সেই দিনের প্রিয়জনদের ছবি ভেসে ওঠে চোখে। মনে পড়ে। প্রিয় মুখ. ড. সফিউদ্দিন আহমদ, জাহিরুল হক চৌধুরী, আকসার বকস, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, আজিজুল মালীক চৌধুরী, তুষার কর, শামসুল করিম কয়েস, মহিউদ্দিন শীরু, জামান মাহবুব, আজিজ আহমদ সেলিম, মনির উদ্দিন চৌধুরী, নৃপেন্দ্র লাল দাস, আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, নূরুজ্জামান মণি, শাহাদাত করিম, মিলু কাশেম, তমিজ উদ্দীন লোদী, আল আযাদ, গোবিন্দ পাল, কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ার, আব্দুল বাসিত মোহাম্মদ, রোকেয়া খাতুন রুবী, এনামুল হক জুবের, শিউল মনজুর, ইকরামুল কবির, নারায়ণ গুপ্ত দীপু, কামকামুর বাজ্জাক রুনু, ফতেহ ওসমানী, সালাম মশরুর, হেলাল উদ্দিন রানা, আব্দুস সবুর মাখন, সৈয়দ সুজাত আলী, মোহাম্মদ হোসাইন, হীরা শামীম, সজল পাল, মোখলেসুর রহমান, আব্দুল মালেক রানা, শারিক শামসুল কিবরিয়া, জয়নাল আফসার, তাজুল ইসলাম বাঙালি, মোসলেহ উদ্দিন বাবুল, তারেশ কান্তি তালুকদার, মোহাম্মদ নওয়াব আলী, আব্দুল হামিদ মাহবুব, রতন কান্তি চাকলাদার, সৌমিত্র দেব টিটো, এখলাসুর রাহমান, জগলু চৌধুরী, আফসার উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, আলাউদ্দিন সরকার, গোলাম রব্বানী চৌধুরী, সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, অবিনাশ আচার্য, সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল, আহমেদ শামীম, জয়নাল আবেদীন জুয়েল, জফির সেতু, মোহাম্মদ রুহেল, মালেক ইমতিয়াজ, মুজিবুর রহমান শাহীন, আতাউর রহমান সেগুল, শফিকুর রহমান শাহজাহান, আব্দুস সাদেক লিপন, কমল আনসারী, চন্দন চৌধুরী, সাঈদুর রহমান সাঈদ, ম আনফর আলী, এইচ. এম আরশ আলী, ফজলুর রহমান বাবুল, পারভেজ রশীদ মঙ্গল, শাহ আলম, বাইস কাদির, আমান উদ্দিন, তাইছির মাহমুদ, সালেহ আহমদ খান,শফিকুল ইসলাম, শামসুল আলম সেলিম, মোস্তফা সেলিম, বদরুল আলম খান,দেওয়ান মাহমুদ রাজা,হারান কান্তি সেন,তালহা জুনেদ,বিমল কর,অজিত রায় ভজন,শাহাদত বখত শাহেদ, মাহবুব লীলেন,রেজুওয়ান মারুফ,অপূর্ব শর্মা,রনক আহমদ চৌধুরী,সুমন বণিক,আব্দুল মুকিত অপি, নাজনীন আক্তার কণা,নিলুপা ইসলাম নীলু, খোকন সরওয়ার,হেলাল নির্ঝর,এফজাল আহমদ চৌধুরী,আহমদ বকুল, সেলিম আউয়াল,নজরুল ইসলাম আসলমী,বনানী দাশ ইভা,দিলয়োর হোসেন দিলু,জুনায়েদ খোরাসানী,পার্থ সারথী দাস,নিখিল রায় পূজন, জিল­ুল করিম চৌধুরী,শুভংকর দাশ,চৌধুরী আমীরুল হোসেন, অমলেন্দু দাশ মিন্টু,আফজল হোসেন, শরীফ ইকবাল,শাহজাহান কমর,পুলিন রায়,রানা কুমার সিংহ,সুফি সুফিয়ান,মালেকুল হক,আবিদ ফায়সল,পরিতোষ বাবুল, ইমতিয়াজ সুলতান ইমরান, হিমাংশু রঞ্জন দাশ,দুলাল চৌধুরী দুলাল, লুৎফুর রহমান,সালাম ফারুক,আহমদ সেলিম, সালমান ফরিদ,হাবিব ফয়েজী, ধ্রব গৌতম, আশরাফ হাসান, কামরুল আলম, জিল্লুর রহমান জয়,সিরাজ উদ্দিন শিরুল,মেহেদী কাবুল,নিজামুল হক হামেদী,মন্জ্জুর মোহাম্মদ,বাদশা গাজী,রিপন আহমদ ফরিদী, আব্দুল মুমিন মামুন, খালেদ উদ-দীন, খালেদ মিয়া, সাঈদ আহমদ কয়েস,নাজমুল আনসারী,আফরোজা জেসমীন, মোস্তাকুর রহমান চৌধুরী, মুস্তিকুর রহিম চৌধুরী,চয়ন চন্দ্র বৈদ্য,সুহেল আহমদ স্বাধীন, মোহাম্মদ নওয়াব আলী,তারেশ কান্তি তালুকদার,আবুল হোসেন,জুনেদুর রহমান,রওশন আরা জেসমীন,মুনশি ইকবাল,আব্দুল হাই আজাদ,আব্দুল মালেক,গোলাম রাজ্জাক চৌধুরী জুবের,হোসেন আহমদ, শাহ আহমদ রফিক টিটু,শাহ আহমদ সাদিক মিঠু, শাহিন উদ্দিন,নূরুল গণি,রেজা আহমদ,ইকবাল আহমদ চৌধুরী কামাল, পলাশ আফজল,নিরন্জন চন্দ, সুমন বৈদ্য,সজল ঘোষ,সুমন বিপ্লব, মোহাম্মদ জায়েদ আলী, বিভাংশু গুন বিভু, শেখ ফজর রহমান,নিরজ্জন মণি বিশ্বাস, পৃথ্বিশ চক্রবর্ত্তী, কয়েস আহমদ মাহদী, মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম,এম আলী হোসাইন, সঞ্জয় কর, শফিকুল ইসলাম লিটন, শ্যামল কান্তি সোম সহ অগণিত প্রিয়জনেরা।

দূর প্রবাসে থাকলেও মনে আমার প্রিয় চাঁদের হাটের স্বর্ণালি দিন আঁকা আছে ভালোবাসার শীতল চাদরে।

আমার জীবনের দুরন্ত সময় কেটেছে ভালোবাসার- প্রাণের সংগঠন নিয়ে আমার প্রিয় শহর সিলেটে। ঝড়,তুফান,বন্যা,বৃষ্টি,রোদ নিয়ে চলেছে সংগঠনের কাজ। সেই অতীতের রঙিন দিনগুলো ভুলার নয়। মনে শিল্পীর তুলির আঁচড়ে আঁকা জ্বলন্ত ছবি সজীব হয়ে থাকবে আজীবন। ভালোবাসা দেশ -বিদেশে ছড়িয়ে থাকা চাঁদের হাট বন্ধুদের।শুভ হোক আগামীর পথ চলা।আমাদের প্রিয় সংগঠন চাঁদের হাটের জন্য শুভ কামনা, বুকের ভালোবাসা।

চাঁদের হাট নিয়ে আমার ছড়াঃ-

চাঁদের হাটের ছেলে

সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

চাঁদের হাটের চাঁদমণিরা

কেমন আছে তারা,

খেলাধূলা গান বাজনায়

দিন কাটাতো যারা।

ছড়া পাঠের আসর নিয়ে

হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি,

ভালোবাসার এ সব দিনে

ছিলো যে স¤প্রীতি।

ঈদের দিনও বাদ যেত না

মিলন মেলা থেকে,

আসতো নতুন তাদের চোখে

স্বপ্ন দিতাম এঁকে।

জুয়েল-ভজন-শাহীন, সেগুল

শামীম-পুলিন রায়,

ধোপাদীঘির পূর্ব পারে

ভিড় জমাতো হায়।

দাদু ভাইয়ের ভালোবাসায়

স্বপ্ন পাখা মেলে,

উড়াল দিতাম আমরা ক'জন

চাঁদের হাটের ছেলে।

চাঁদের হাটের চাঁদমণিরা

কেমন আছে তারা,

জ্বলছে তারা নীল আকাশে

হয়ে রাতের তারা।

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ