শিল্পমন্ত্রীর বাজারদর্শন ও ভারতের পেঁয়াজ–কূটনীতি

November 14, 2019, 11:26 AM, Hits: 228

শিল্পমন্ত্রীর বাজারদর্শন ও ভারতের পেঁয়াজ–কূটনীতি

হ-বাংলা নিউজ : শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ যেদিন জাতীয় সংসদে বললেন, পেঁয়াজ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই, দাম নিয়ন্ত্রণেই আছে, সেদিনই পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় উঠেছে। এর আগে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হতো কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। বৃহস্পতিবার পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকায়। শিল্পমন্ত্রীর বাজার নিয়ন্ত্রণের দর্শন কাজে লাগেনি। মানুষ এখন ভুলেই যাচ্ছে যে কিছুদিন আগেও পেঁয়াজের স্বাভাবিক দাম ছিল—কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছিলেন, শিগগিরই পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার নিচে নামার সম্ভাবনা নেই। তারও আগে তিনি বলেছিলেন, সিন্ডিকেট পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে। পণ্যের দাম বাড়লেই আমরা সব সরকারের আমলে সিন্ডিকেটের কথা শুনি। কিন্তু সিন্ডিকেটে কারা আছেন, তাঁদের নাম জানা যায় না। আর জানা গেলেও তাঁরা এতটাই ক্ষমতাবান যে সরকার তাঁদের কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারে না।

পেঁয়াজ নিয়ে মন্ত্রীদের এসব কথা শুনে স্বাধীনতার পর খাদ্যসংকটকালে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ফণীভূষণ মজুমদারের কথা মনে এল। যখন বাজারে চাল মণপ্রতি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, তখন খাদ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন, চালের মণ ১০০ টাকার ওপরে উঠতে দেওয়া হবে না। সঙ্গে সঙ্গে চালের মণ ১০০ টাকায় উঠে গেল। এরপর তিনি বললেন, ১২০ টাকার বেশি হতে দেওয়া যাবে না। পরদিনই চালের মণ ১২০ টাকার ওপরে উঠল।

সে সময়ে খাদ্যসংকটের পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে পাঠানো গমবাহী জাহাজের গতিপথ ঘুরিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যায়। কিউবার কাছে পাট বিক্রি করার অজুহাতে বাংলাদেশকে শাস্তি দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। তবে এখনকার পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার ক্ষেত্রে কারও ষড়যন্ত্র আছে—এমন কথা কোনো মন্ত্রী-নেতা বলেননি। বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীদের বেফাঁস কথায় যে বাজার চড়ে যায়, তার অনেক উদাহরণ আছে। এরশাদ আমলে চিনির দাম এতটা বেড়ে গিয়েছিল যে তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রীর নামের সঙ্গে ‘চিনি’ যোগ হয়ে গিয়েছিল। তাঁকে সবাই বলতেন ‘চিনি জাফর’।

এবারে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার পেছনে বাজারের কারসাজির চেয়ে বেশি কাজ করেছে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হওয়া। বাংলাদেশে বছরে ২৬ লাখ টনের মতো পেঁয়াজের চাহিদা আছে। দেশে উৎপন্ন হয় ১৪ থেকে ১৫ লাখ টন। বাকিটা বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। যোগাযোগের সুবিধার জন্য ভারত থেকেই বেশি পেঁয়াজ আসত। এ ছাড়া মিয়ানমার, মিসর ও পাকিস্তান থেকেও কিছু পেঁয়াজ আসে। তবে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার ভারতের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ