বিজেডবিøউএ’র অনুষ্ঠানে ‘ডীন অব টকশো’ পদক ঘোষণা, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে একুশে পদক প্রদানের দাবী

July 23, 2019, 1:26 PM, Hits: 561

বিজেডবিøউএ’র অনুষ্ঠানে ‘ডীন অব টকশো’ পদক ঘোষণা,  মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে একুশে পদক প্রদানের দাবী

সালাহউদ্দিন আহমেদ , হ-বাংলা নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : বাংলাদেশের বরেণ্য সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট লেখক মুরহুম মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সম্পন্ন একুশে পদক (মরনোত্তর) প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় সম্মান জানানোর দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশ জার্নালিষ্ট এন্ড রাইটার্স এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (বিজেডবিøউএ)। এছাড়াও সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাঁকে ‘ডীন অব টকশো’ পদকে ভ‚ষিত করা হবে। মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর স্মরণে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিজেডবিøউএ’র সভাপতি ও লং আইল্যান্ড ইউনির্ভাসিটির অ্যধাপক ড. শওকত আলী এই দাবী ও সিদ্ধান্তের কথা জানান।

নিউইয়র্কের বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশনের বার্তা কক্ষে গত ২০ জুলাই শনিবার সন্ধ্যায় এই আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ড. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মরহুম জাহাঙ্গীরের স্মৃতি তুলে ধরে আলোচনায় অংশ নেন, প্রবীণ সাংবাদিক, সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক মনজুর আহমদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, বিশিষ্ট অভিনেত্রী রেখা আহমদ, বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও এবং বিজেডবিøউএ’র সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, সাপ্তাহিক রানার সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সাপ্তাহিক প্রবাস-এর প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ওয়ালীউল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অ্যধ্যাপক ড. মওলানা ফখরুদ্দীন, মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার ফরহাদ, টাইম টেলিভিশন-এর হেড অব নিউজ আবিদুর রহীম, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ, গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ, ইয়র্ক বাংলা সম্পাদক রশিদ আহমদ। 

এছাড়াও নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড থেকে ফোনে আলোচনায় অংশ নেন বাঙলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক আমার দেশ সম্পাদক হামিদ রেজা খান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিজেডবিøউএ’র সহ সভাপতি ড. মুহাম্মদ আবুল কাশেম। 

সভায় বক্তরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে মরহুম মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর-কে স্মরণ করার  পাশাপাশি তার জীবনের বিভিন্ন দিক ও স্মৃতি নিয়ে কথা বলেন। বক্তারা বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর একজন আপদমস্তক সাংবাদিক ছিলেন। মিডিয়া নিয়েই ছিলো তার সকল কর্ম। স্বল্প ভাষী, যুক্তিবাদী আর হাসি-খুশী মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন সর্বজনপ্রিয়। ছিলেন অজাত শত্রু। তার অকাল মৃত্যুতে বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে শূন্যতার সৃষ্টি হলো। 

বক্তারা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের অপ্রকাশিত লেখা বা গ্রন্থ প্রকাশে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং তার লেখা, বই, গবেষণা নিয়ে দেশ ও প্রবাসে প্রদর্শণী সহ সভা-সমাবেশের আয়োজনের দাবী জানান। তারা ড, শওকত আলী দাবী ও প্রস্তাবের প্রতিরও সমর্থন জানান। 

উল্লেখ্য, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর দুই দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গত ৯ জুলাই মঙ্গলবার রাতে রাজধানী ঢাকার আসগর আলী হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্ন ইলাহি রাজেউন)। তিনি মাইলো ফাইব্রোসেস (রক্তের ক্যানসার)-এ আক্রান্ত ছিলেন। তিনি নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর ছোট ভাই। 

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের প্রথম জানাজা জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় ও শেষ জানাজা স্থানীয় চামেলীবাগ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তার মরদেহ মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ১৯৭০-এর দশকের প্রথম দিকে প্রিন্ট মিডিয়ায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে তিনি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় যুক্ত হন। ছিলেন পিআইবি’র প্রশিক্ষক। নিজেকে প্রতিষ্টিত করেন একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে। এছাড়া সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলেও যুক্ত ছিলেন তিনি। নাচের সংগঠন নৃত্যা ল ড্যান্স কোম্পানির সমন্বয়কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইনস্টিটিউট (আইটিআই) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ