সরকারের ‘স্মার্ট’ বাজেটকে ‘চটকদার’ বলছে গণফোরাম

June 15, 2019, 1:37 PM, Hits: 132

সরকারের ‘স্মার্ট’ বাজেটকে ‘চটকদার’ বলছে গণফোরাম

হ-বাংলা নিউজ : প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে হতাশাজনক বলেছে গণফোরাম। দলটি বলছে, বিগত বছরগুলোয় সামষ্টিক অর্থনীতির নীতির ফলে সার্বিক অর্থনীতিতে সৃষ্ট বিপদ ও ঝুঁকি সম্পর্কে এবারের বাজেটে অজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। এ বাজেটের ফলে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জনগণের বাজেট নয় উল্লেখ করে গণফোরাম একে প্রত্যাখ্যান করেছে।

গণফোরাম মনে করে, সরকার একে ‘স্মার্ট’ বাজেট বললেও এটি ‘চটকদার’ বাজেট। অর্থনৈতিক বৈষম্য, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের মতো সমস্যা মোকাবিলায় কোনো উদ্যোগ নেই। দলটি অভিযোগ করে বলেছে, জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করে শক্তিশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির স্বার্থ হাসিলের বাজেট এটি।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর প্রেসক্লাবে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে গণফোরাম সংবাদ সম্মেলন করে। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া।

সভাপতির বক্তব্যে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এ বাজেটে জনগণের স্বার্থকে বিভিন্নভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। দেশের মালিক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হলে জনগণকে দেশের আয়-ব্যয় কীভাবে চলছে, তা জানতে হবে। এ ছাড়া তিনি বলেন, গণফোরাম এ বাজেট প্রত্যাখ্যান করছে।

বাজেট প্রত্যাখ্যান করে গণফোরাম বা তার জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোনো ধরনের কর্মসূচি বা কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য এটা নিয়ে তাঁরা আলোচনা করবেন।

বাজেট নিয়ে মূল বক্তব্যে রেজা কিবরিয়া বলেন, বাজেটে রাজস্ব ও ঋণের সঠিক ধারণা প্রদান এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোর বাজেট ঘাটতিকে বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতি এখন সত্যিকারের যে বিপদের সম্মুখীন, সে সম্পর্কে বাজেটে অজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে।

ভুল মুদ্রা বিনিময় হার নীতি, ধান-চাল ক্রয়ে অব্যবস্থপনা, ব্যাংকিং খাতে মন্দ প্রভাব, রাজস্ব আদায় কমে গিয়ে অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানায় গণফোরাম।

গণফোরাম তাদের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, কৃষকদের প্রতি সরকারের দয়ামায়া কম, কিন্তু ঋণখেলাপিদের সরকার পুরস্কৃত করেছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে আর্থিক বরাদ্দ অপর্যাপ্ত মনে হলেও গণফোরাম বলছে, দক্ষতার সঙ্গে সে অর্থ ব্যয় করলে সেবার মান ও পরিধি বাড়ানো সম্ভব। তারা অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় কমানোর দাবি জানায়।

সরকারি ব্যাংকগুলোতে পুনঃ অর্থায়নে বাজেট বরাদ্দের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে গণফোরাম বাতিলের দাবি জানায়। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের জন্য বরাদ্দেরও সমালোচনা করে গণফোরাম বলে, এ অর্থ অপব্যয় হবে এবং জনমনে প্রশ্ন তৈরি হবে।

প্রকৃত রাজস্ব সংগ্রহ পরিস্থিতি দুর্বল বলে মনে করে গণফোরাম। তারা বলে, রাজস্ব প্রশাসনে সংস্কার প্রয়োজন।

বাজেটকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটি কয়েকটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর জন্য বাজেট। এখানে সাধারণ মানুষের ওপর করের বাড়তি চাপ পড়বে, কিন্তু সুবিধা পাবে ঋণখেলাপিরা। তিনি আরও বলেন, ‘এটা জনগণের বাজেট না, জনগণের সরকারও না। অনির্বাচিত, অগণতান্ত্রিক সরকারের থেকে এর চেয়ে ভালো বাজেট আশা করা উচিত না।’

গণফোরাম জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট যারা প্রণয়ন করেছে, তাদের দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো চিন্তা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সভাপতি পরিষদের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন, মোহসিন রশীদ, জগলুল হায়দার আফ্রিক প্রমুখ। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ