ফিলাডেলফিয়ায় মুনা কনভেনশন ৫-৭ জুলাই : প্রস্তুতি এগিয়ে

April 25, 2019, 11:50 AM, Hits: 885

ফিলাডেলফিয়ায় মুনা কনভেনশন ৫-৭ জুলাই : প্রস্তুতি এগিয়ে

সালাহউদ্দিন আহমেদ , হ-বাংলা নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ‘ইসলাম : দ্যা ব্যালেন্সড ওয়ে অব লাইফ’ এই প্রতিপাদ্য সামনে নিয়ে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা) কনভেনশন-২০১৯। গত বছরের মতো এবছরও যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া অঙ্গরাজ্যের বিখ্যাত ‘পেনসিলভেনিয়া কনভেনশন সেন্টারে’ আগামী ৫-৭ এপিল যথাক্রমে শুক্র, শনি ও রোববার তিনদিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে ষষ্ঠ কনভেনশন। মুনা কনভেনশনের উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের মধ্যে থাকবে সেমিনার, ইয়্যুথ কনভেনশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিদেশী ইসলামিক স্কলারগণ বক্তব্য রাখবেন। নতুন প্রজন্ম সহ মুসলিম কমিউনিটিকে ইসলামের আলোকে দীনের উপর চলার মধ্য দিয়ে সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠাই কনভেনশনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আয়োজকদের প্রত্যাশা এবারের সম্মেলনের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ১৫ হাজার মুসলিম নর-নারী যোগ দেবেন। 

মুনা কনভেনশন-২০১৯ উপলক্ষ্যে গত ২২ এপ্রিল সোমবার জ্যাকসন হাইটসের পালকি সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে উপরোক্ত তথ্য জানানো হয়। এসময় মুনা ন্যাশনাল কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নূরুজ্জামান, কনভেনশনের আহŸায়ক আরমান চৌধুরী ও মুনা ন্যাশনাল কমিটির এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর হারুন-অর রশীদ সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল আরীফ ও মাহবুুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। 

সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন রেজাউল করীম। এরপর চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য মুনা কনভেনশন-২০১৯ এর বিস্তারিত তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের কনভেনর আরমান চৌধুরী। এরপর মুনা’র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সাংবাদিক সম্মেলন উপস্থাপনায় ছিলেন মাহবুবুর রহমান।

সবেশেষে আয়োজকদের অনুরোধে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে যারা গত বছর মুনা কনভেশন কভার করেছেন তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে প্রবীণ সাংবাদিক কাজী শামসুল হক ও সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান সহ রিমন ইসলাম ও সালাহ আহমেদ তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। 

সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে মুনা কনভেনশনের আহŸায়ক আরমান চৌধুরী বলেন, ‘মুনা’ কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয় এবং দেশ-বিদেশের কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথেও জড়িত নয়। মুনা তার নিজস্ব কর্মসূচী নিয়ে সম্পূর্ণ নিজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে চলেছে। মূলত: মুনা’র সদস্যরাই এই সংগঠনের প্রাণ এবং তারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবেই কাজ করে থাকেন। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং বড় হওয়া মুসলিম নতুন প্রজন্মকে ইসলামের উপর ধরে রাখাই মুনার বড় চ্যালেঞ্জ।

অমুসলিমদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে আরমান চৌধুরী বলেন, মুনা এব্যাপারে সরাসরি কোন কাজ করে না। তবে এমন বিষয়ে আমরা মসজিদগুলোর সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি।

এব্যাপারে নূরুজ্জামান বলেন, অমুসলিমদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা না করার ব্যাপারে জোড় করার কিছু নেই। বিষয়টা বুঝার এবং সংশ্লিস্টদের নিজস্ব বিষয়। এবারের কনভেনশনে ‘ইন্টারফেইথ’ বিষয়ক অনুষ্ঠান থাকবে। সেখানে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। 

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে আরমান চৌধুরী বলেন, যেহেতে অনুদান ছাড়াও বিভিন্ন স্পন্সর থেকে আয়-ব্যয় হয়ে থাকে, সেহেতু, সঠিক করে বাজেট বা আয়-ব্যয়ে তথ্য বলা মুশকিল। 

এক প্রশ্নের উত্তরে নূরুজ্জামান শ্রীলংকা ও নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সবার সহযোগিতায় অতীতের মতোই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কনভেনশন সমাপ্ত হবে। গত বছর যেহেতু শান্তিপূর্ণ পরিবেশেনই কনভেনশন সমাপ্ত হয়েছে, আশা করছি এবছরও সেভাবেই সমাপ্ত হবে। তাছাড়া কনভেনশন সেন্টারের নিরাপত্তা’র বিষয়টি ফিলাডেলফিয়া ষ্টেট প্রশাসনই দেখার বিষয়। ফলে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। 

এক প্রশ্নের উত্তরে হারুন-অর রশীদ বলেন, মুনা যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি সামাজিক সংগঠন। মুনা’র কোন রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, ইসলামের আলোকে জীবন-যাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মুসলিমদের বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম নিয়ে মুনা কাজ করছে। 

মুনা কনভেনশন ২০১৯ উপলক্ষ্যে সাংবাদিক সম্মেলনে পঠিত বক্তব্য নি¤œরূপ:

মুসলিম উম্মাহ নর্থ আমেরিকা কর্তৃক আয়োজিত আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই গত ২১ এপ্রিল রোববার শ্রীলঙ্কায় গীর্জা ও হোটেলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ও আহতদের জন্য শোক প্রকাশ এবং তাদের পরিবার পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। একইভাবে সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ও আহতদের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের প্রতি ও শোক এবং সমবেদনা জ্ঞাপন করে বলা হয়- আমরা দৃঢ়চিত্তে নিন্দা জানাচ্ছি এই সন্ত্রাসী হামলার। আহবান জানাচ্ছি বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে এই জাতীয় সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য।

মুনা গত বছরের ন্যায় এবারও ৫, ৬, ও ৭ জুলাই ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত পেনসিলভেনিয়া কনভেনশন সেন্টারে বিশাল কনভেশন করতে যাচ্ছে। এই কনভেনশন মুসলিম জীবনে বিশেষ করে বাংলাদেশী-আমেরিকান পরিবারের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

মুনা আমেরিকার একটি দাওয়াতি ও সামাজিক সংগঠন। মানুষের ব্যক্তিগত, নৈতিক ও সামাজিক মানোন্নয়নের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা চালানোর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি তালাশের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত হয় মুনা। এই সংগঠনটি ১৯৯০ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে কর্পোরেশন-ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে মুনা আমেরিকার ৩০ এর অধিক রাজ্যে কর্মতৎপরতা পরিচালনা করছে। মুসলিমদেরকে প্রাত্যহিক, সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ড এবং জাতীয় নাগরিক জীবনে ভূমিকা পালনের নিমিত্তে সংগঠিত করতে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে করে এই সমস্ত ব্যক্তিবর্গ আল্লাহ এবং তার রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণের মাধ্যমে ও মানবতার সেবা করে যেতে পারেন সূচারুরূপে।

মিডিয়া এবং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহযোগিতায়, সর্বোপরি মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে মুনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে মুনা কনভেনশন-২০১৮। ২ দিন ব্যাপী ঐ কনভেনশন বাংলাদেশী কমিউনিটি সহ আমেরিকান ও আমেরিকান মুসলিম কমিউনিটির মাঝে ব্যক্তি ও সমাজ গঠনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আমরা মুনা ন্যাশনাল সংগঠনের পক্ষ থেকে গোটা বাংলাদেশী কমিউনিটিকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। জানাচ্ছি সবাইকে মোবারকবাদ, আন্তরিক ভালবাসা। গতবারের কনভেনশনে “চৎড়ঢ়যবঃ গঁযধসসধফ (ঝঅড.): ঞযব সবংংবহমবৎ ড়ভ ঢ়বধপব ্ সধৎপু” এই কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়ের পর এবারের আলোচ্য বিষয় “ওংষধস: ঞযব নধষধহপবফ ধিু ড়ভ ষরভব” নির্ধারণ করা হয়েছে। 

মানুষ হিসেবে আমরা সবাই চাই ব্যক্তির উন্নয়ন, আমাদের পরিবারের উন্নয়ন। আমরা চাই আমাদের প্রিয় সন্তান-সন্ততি সহ পরিবারের সকল সদস্য নির্বিঘেœ নিরাপদে, আর্থসামাজিক জীবনে উন্নততর জীবনযাপন করুক। সন্তানগুলো উত্তম, উন্নত চরিত্র সহ উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠুক। ভবিষ্যৎ জীবনে তাদের অর্থনৈতিক উন্নতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। সামাজিক জীবনে মানুষ হিসেবে প্রশংসিত ও গ্রহনীয় মানুষ হিসেবে বিবেচিত হোক। মানুষের কাছে পরিচিত হোক- প্রাজ্ঞ, সুজন, পরোপকারী ও আপনজন হিসেবে। সেই সাথে আমরা চাই আমাদের আদর্শ ও আমাদের বিশ্বাসের আলোকে মৃত্যু পরবর্তী জীবনের সফলতা। কিন্তু কিভাবে? তা নিয়েই মুনা’র এবারের কনভেনশন। বিশ্ব সেরা বাংলা ও ইংরেজি ভাষার ইসলামিক স্কলারদের জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় তাই তুলে ধরা এবারের কনভেনশনের উদ্দেশ্য।

মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা একটি ফেইথ বেইজ দাওয়াতী ও সামাজিক সংগঠন। একটি দাওয়াতী সংগঠন হিসাবে মুনা মুসলিমদেরকে আহবান করে তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইসলাম পালনের এবং অমুসলিমদের কাছে ইসলামের সঠিক শিক্ষা তুলে ধরতে।

একটি অলাভজনক সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন হিসাবে মুনা আমেরিকা কিংবা বিদেশে কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। নিজস্ব স্বতন্ত্র সংবিধান এবং কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির আলোকেই এই সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছে জন্মলগ্ন থেকে। মুনা প্রধানত ঐ সমস্ত কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে যাতে করে একজন ব্যক্তিকে সংশোধনের মাধ্যমে সর্বাঙ্গীন সামাজিকভাবে কল্যাণকর ব্যক্তিতে পরিণত করা যায়। এ লক্ষ্যে মুনা ব্যক্তিদেরকে আধ্যাত্বিক, নৈতিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। মুনা চায় এমন সব প্রশিক্ষিত মানব সম্পদের উন্নয়ন, যারা তাদের ¯্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পর্কে সুসামঞ্জস্য রক্ষা করে চলে এবং একই সময়ে সমাজের সর্বক্ষেত্রে উৎপাদনমুখী ভূমিকা পালন করে।

মুনা সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ষান্মাসিক এবং বার্ষিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের ও পর্যায়ের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে; যাতে শিক্ষাদান করা হয় ইসলামের বিভিন্ন দিক ও বিভাগ এবং মানুষের দৈনন্দিন সাধারন সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবন সম্পর্কিত বিষয়াবলী। মানুষের ব্যক্তিগত মানোন্নয়ন ছাড়াও মুনা স্থানীয় ও জাতীয় জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা সামাজিক ও নাগরিক অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে থাকে। নিজেদের সাধ্য ও সামর্থানুযায়ী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদেরকে বিভিন্ন ধরনের ধাতব্য ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত ও সংযুক্ত করছে; যাতে করে তারা যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দুস্থ মানবতার পাশে দাঁড়াতে পারে। আর এরই অংশ হিসেবে ছোট ছোট কর্মসূচির পাশাপাশি ন্যাশন ওয়াইড আয়োজন করেছে ষষ্ঠবারের মতো কনভেনশন; মুনা কনভেনশন ২০১৯। এবারের কনভেনশনে আমাদের টার্গেট ১৫ হাজার লোকের সমাগম। এই টার্গেট বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

মুনা নিজের জনশক্তি ও অন্যান্য মুসলিমদেরকে নিয়ে এমন একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে দিতে চায় যাতে করে তারা অন্য ধর্মাবলম্বী ও ভিন্ন ভাষাভাষী বর্ণ ও গোত্রের জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবেশীদের সাথে পারস্পারিক সংলাপে নিয়োজিত হতে পারে, যার মাধ্যমে অন্ত: ও আন্ত:সা¤প্রদায়িক বোঝাপড়া, সামাজিক প্রসার ও উন্নয়ন ঘটানো যায়। মুনা মনে করে, এ প্রক্রিয়ায় এই সমাজে সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। এবারের কনভেনশন এই ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

মুনা একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও রাজনীতি সম্পর্কে উদাসীন বা বেখবর কোন দল নয়। যেহেতু রাজনীতি আমাদের জীবনকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করে তাই মুনা এর জনশক্তি ও অন্যান্যদের মাঝে রাজনৈতিক নাগরিক ও নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে চায়; যাতে করে রাজনৈতিক বিষয়াবলীতে নাগরিকগণ সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং এর ফলে রাষ্ট্রীয় জীবনে সুচারু সিস্টেম বহাল থাকে। মুনা চায়, বিশ্বকে নেতৃত্ব দানকারী এই আমেরিকা-যুক্তরাষ্ট্রের জনশক্তি এবং অন্যান্য নাগরিকগণ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে সক্রিয় যোগাযোগ রক্ষা করে চলুক যাতে করে তাদের কথা শোনা হবে এবং তাদের অধিকার রক্ষা করা যাবে এবং তাদেরকে সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের একপ্রান্তে ঠেলে দিয়ে উপেক্ষা করা হবে না।

মুনা আমেরিকায় জাতীয় ভিত্তিক সংগঠন হলেও মুনার প্রাথমিক ফোকাস হচ্ছে বাংলা ভাষাভাষী তথা বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটি। মুনা প্রধানত: বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝেই এর কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে। এদের দুনিয়াবী ও পরকালীন কল্যাণ নিশ্চিত করতেই মুনা তার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই দেশে বাংলাভাষাভাষী মুসলিমরা ও অন্যান্যরা কিভাবে এখানকার মূলধারার জীবনে অংশগ্রহণ করে নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করবে এবং একই সাথে নিজের আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের সংরক্ষণ করবে সে বিষয়ে মুনা সচেতন। আর তাই মুনা চায় বাংলাদেশী-আমেরিকানরা মুনার কর্মতৎপরতায় বেশি বেশি করে সক্রিয় অংশগ্রহণ করুক। সাথে সাথে বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে গড্ডালিকা প্রবাহ থেকে বাঁচাতে মুনা চায় প্রতিটি বাংলা ভাষাভাষী অভিভাবক তাদের সন্তানদেরকে মুনা ইয়ুথ এবং ইয়াং সিস্টার অফ মুনার সাথে সম্পৃক্ত করুক।

মুনা চায় বাংলাদেশী-আমেরিকানদের আমেরিকার মূলধারার মুসলিম স্কলার ও নেতৃবৃন্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং পূর্বে বর্ণীত মুনার কর্মকান্ডের কিছু প্রায়োগিক দিককে পরিচয় করিয়ে দিতে। আর এর জন্য ভূমিকা রাখবে মুনার এবারের কনভেনশন-২০১৯। আমেরিকায় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে ভারসাম্যমূলক জীবন-যাপনের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা সম্বলিত আলোচনা রাখবেন ওয়ার্ল্ড ফেমাস সুপরিচিত ও সুবিজ্ঞ আলোচকবৃন্দ। এবারের ইংরেজি আলোচকদের সাথে সাথে থাকবেন বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশ থেকে আগত বাংলা ভাষার ইসলামিক স্কলারগণ। 

এছাড়াও তরুণ ছেলে-মেয়েদের জন্য থাকবে আলাদা ‘ইয়ুথ কনভেনশন”। ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের বিভিন্ন দিক ও বিভাগের উপর প্যারালাল প্রোগ্রাম। আলোচনা ছাড়াও থাকবে ‘মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’ বিভিন্ন ইসলামী ও অন্যান্য সামগ্রীর দোকান নিয়ে বিশাল বাজার। ছোট ছেলে-মেয়েদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান ‘লার্ন এন্ড ফান’। আর বিভিন্ন ‘খেলাধুলা-রাইড’ এর ব্যবস্থা। এছাড়া ফিলাডেলফিয়া ভ্রমণকারীদের জন্য থাকবে আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতিবহুল ‘ভাতৃপ্রতিম ভালোবাসার শহর’ নানা দর্শনীয় স্থান পরিভ্রমন ও পরিদর্শনের সুযোগ। সর্বোপরি, পরিবার-পরিজন বন্ধু-স্বজন আর গোটা আমেরিকা থেকে আসা বাংলা ভাষাভাষীদের এই সর্ববৃহৎ মিলন মেলায় অংশগ্রহণের সুবর্ণ সুযোগ।

 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ