বিলালের যে কীর্তি উপমহাদেশে আর কারও নেই!

October 9, 2018, 1:36 PM, Hits: 63

 বিলালের যে কীর্তি উপমহাদেশে আর কারও নেই!

হ-বাংলা নিউজ : এ তো রীতিমতো ভেলকিই। ৩৩ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক! আর অভিষেকে বিলাল আসিফ বাজিমাত করলেন ৬ উইকেট শিকার করে। ইতিহাসের অংশ তিনি হয়েই গেছেন।

দুবাই টেস্টে তৃতীয় দিনের খেলা চলছে। প্রথম দিনের পাটা উইকেটে তৃতীয় দিনে এসে স্পিনবান্ধব হয়ে ওঠার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছেন বিলাল আসিফ। পাকিস্তানের হয়ে অভিষেক টেস্টে বল হাতে অভিষেক ইনিংসেই তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান ২১.৩-৭-৩৬-৬! মূলত এই অফ স্পিনারের ভেলকিতেই প্রথম ইনিংসে ২০২ রানে গুটিয়ে গেছে অষ্ট্রেলিয়া। অথচ ওপেনিং জুটিতে ১৪২ রান তুলেছিলেন অ্যারন ফিঞ্চ-উসমান খাজা। বাকি ৬০ রানে অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেট হারানোর নেপথ্য নায়ক অবৈধ অ্যাকশনের দায়ে এক সময় অভিযুক্ত হওয়া এই আসিফ।

তৃতীয় দিনে শন মার্শকে দিয়ে উইকেট শিকারের শুরু করেছিলেন বিলাল। এরপর একে একে তুলে নিয়েছেন উসমান খাজা, ট্রাভিস হেড, মারনাস লাবুশেন, টিম পেইন আর নাথান লায়নকে। মজার ব্যাপার, বিলালের মতো ট্রাভিস হেড ও মারনাস লাবুশনেরও অভিষেক ঘটেছে দুবাই টেস্ট দিয়ে। অভিষিক্ত হয়ে প্রতিপক্ষ দলের অভিষিক্ত দুজনকে তুলে নেওয়ার রেকর্ড টেস্ট ক্রিকেটে আছে কিনা, তা গবেষণার বিষয়। তবে বিলাল যে পাকিস্তানের সবচেয়ে বেশি বয়সী বোলার হিসেবে টেস্ট অভিষেকে এক ইনিংসে ন্যূনতম ৫ উইকেট নিলেন তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ৩৩ বছর ১৩দিন বয়সে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। এর আগে রেকর্ডটি ছিল পেসার তানভীর আহমেদের। ৮ বছর আগে আবুধাবিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩১ বছর বয়সে অভিষেকেই ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

দুবাই টেস্টের আগে লেগ স্পিনার শাদাব খান চোটে পরায় অভিষেকের কপাল খুলে যায় বিলালের। আর সুযোগটা পেয়েই পাকিস্তানের হয়ে তিনি গড়লেন ইতিহাস। আর টেস্ট ক্রিকেটে গত তিন-চার দশক হিসেবে আনলেও বিলালের চেয়ে বেশি বয়সে টেস্টে অভিষিক্ত হয়ে এক ইনিংসে কেউ ন্যূনতম ৫ উইকেট নিতে পারেনি। আরেকটু খোলাসা করে বলা যায়, টেস্ট ক্রিকেটে গত ৫০ বছরে বিলালই সবচেয়ে বেশি বয়সী ক্রিকেটার যিনি অভিষেকেই এক ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেন। আর উপমহাদেশের দলগুলোর মধ্যে মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সী বোলার হিসেবে এই রেকর্ডটাও নিজের করে নিলেন আসিফ।

টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে এক ইনিংসে ন্যূনতম ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটা ইংলিশ লেগি চার্লস ম্যারিয়টের (৩৭ বছর ৩৩৫ দিন)। ১৯৩৩ সালে ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ম্যারিয়ট। বিষ্ময়কর ব্যাপার হলো, ম্যারিয়টের টেস্ট ক্যারিয়ার বলতে ওই একটা ম্যাচ-ই!

টেস্ট অস্ট্রেলিয়াকে ফলোঅন করতে খুব কমই দেখা গেছে। গত ৩০ বছরে দৃশ্যটা মাত্র একবারই দেখা গেছে—২০০৫, ট্রেন্টব্রিজ টেস্টে ফলোঅন করিয়েছিল ইংল্যান্ড। পাকিস্তান আজ এই সুযোগ পেয়েছিল। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস থেকে ২৮০ রানে পিছিয়ে থাকায় ফলোঅনে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু টিম পেইনের দলকে ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে পাকিস্তান। তৃতীয় দিন শেষ পাকিস্তান এগিয়ে আছে ৩২৫ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে এখনো পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৪৫। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ