সৌদি আরবে কানাডিয়ান রাষ্ট্রদূত এবং এডমন্টনে মানবাধিকার সংগঠক “পার্সন নন-গ্রেটা”

October 1, 2018, 1:36 PM, Hits: 207

সৌদি আরবে কানাডিয়ান রাষ্ট্রদূত এবং এডমন্টনে মানবাধিকার সংগঠক “পার্সন নন-গ্রেটা”

এডমন্টন, আলবার্টা থেকে : মানবাধিকার লংঘনকারীদের দৃষ্টতা এখন যেন ঘরে বাইরে। জংলী আইনের তল্পীবাহক ও তাদের মানসপুত্ররা যখন যা মনে করে তা-ই এখন আইন। সম্প্রতি সৌদি আরবের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয় কানাডার রাষ্ট্রদূত ডেনিস হুরেককে ডেকে নেয় এবং তাকে “পার্সন নন-গ্রেটা’ হিসাবে ঘোষণা করে।  দিন শেষে রাষ্ট্রদূতকে সেদেশ ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়। আরব রাষ্ট্রের ব্যক্তিগত বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ করার কারনে এই সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। কানাডার অবস্থানকে সৌদি আরব তাদের দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ের উপর একটি আক্রমণ, এবং যা অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে সরকার।

কানাডা সৌদি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নাগরিক-সমাজে অতিরিক্ত ও নারী অধিকার কর্মীদের গ্রেফতারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সামার বাদাউই সহ অন্যান্য সকল শান্তিকামী মানবাধিকার কর্মীকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানায়.

সৌদি স্থানীয় বার্তা সংস্থার রিপোর্টে প্রকাশ কানাডার অবস্থান সে দেশের উপর একটি আক্রমণ, এবং তা অগ্রহণযোগ্য। 

এহেন ধৃষ্টতায় বিশ্ববাসী যখন হতবাক। তখন একই ভাবধারায় এডমন্টনের একটি স্বেচ্চাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ কানাডা এসোসিয়েশন অব এডমন্টন (বিসিএই) এর গোষ্টীতন্ত্রের অনুসারী ও নিয়ন্ত্রক শহীদুল ইসলাম, ফিরোজ আলী, এইচ. এম. আশরাফ আলী অপরাপর যোগসাজসে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সেন্টার অব আলবার্টা এর সভাপতি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কানাডা ইউনিট কমান্ডের নির্বাহী সদস্য, এবং সংগঠনটির স্পেশাল প্রজেক্ট কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত দেলোয়ার জাহিদকে গত ৮ই সেপ্টেম্বর একটি বিশেষ সাধারন সভায় বিনা এজেন্ডার আকস্মিক এক আলোচনায় এবং শহীদুল ইসলামের প্রস্তাবে আজীবনের জন্য  “পার্সন নন-গ্রেটা’ হিসাবে ঘোষণা করে। 

১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ কানাডা এসোসিয়েশন অব এডমন্টন (বিসিএই) এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সর্বজন শ্রদ্ধেয় ডা: সৈয়দ আমীর সভাপতিত্বে গত ২১ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত সমযোতা সভার সিদ্ধান্তের সুষ্পষ্ট লংঘন এ ধরনের কার্যক্রম। সমযোতার এ বিশেষ সভায় বিসিএই এর সাবেক সভাপতিদের মধ্যে সর্বজনাব (ছবিতে বায়ে) নকিব আহমেদ, ড. জাহাঙ্গীর খান, মাহবুব চৌধুরী, ড.মুহাম্মদ তাহের, মুকবুল হোসেন, সাজ্জাদ খন্দকার,দেলোয়ার জাহিদ, মু. ইসমাইল (সদস্য ) ড. মতিয়ুর রহমান, আশরাফ উদ্দিন, ইনামুল খন্দকার, এম. রহমান খান, ম. লস্কর, কাজী আওরঙ্গজেব, মিজানুর রহমান (সাবেক সেক্রেটারী)অংশ নিয়ে ছিলেন।

কথিত এ সুবিধাবাদীচক্রটির ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কারনে এসোসিয়েশনের ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭ এর সাধারন/বিশেষ সাধারন  সভা সফল হয়নি, এ অসফল সভার কাজকে পূর্ণতা দেয়ার জন্য ২১শে ফেব্রুবয়ারী ২০১৮ আরেকটি বিশেষ সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয় এতেও সুবিধাবাদীদের ইপ্সিত সফলতা না আসায় কানাডীয় মানবাধিকার ও আইনের বিপরীতে শহীদুল ইসলামের  নেতৃত্বে ও তার দ্বারা তৈরীকৃত স্বৈরতান্ত্রিকভাবে একটি বাই-লজ পূনঃস্থাপন করে, এবং তারই প্রস্তাবনায় ডি-ফেক্টো ওই  বিশেষ সাধারন সভায় দুই-দুইবার নির্বাচিত প্রেসিডন্ট ম.লস্করকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার এবং দেলোয়ার জাহিদকে আজীবনের জন্য “পার্সন নন-গ্রেটা” ঘোষনা করেছে । এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের প্রনীত নীতিমালাকে পদদলিত করে একই সভায় সংবিধানকে পরিবর্তন ও তা পূনঃস্থাপন করে  সম্পূর্ণ নজির ও এজেন্ডা বিহীনভাবে এধরনের সংবিধান পরিপন্থী হঠকারী সিদ্ধান্তে কমিউনিটিতে তীব্র উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বাংলাদেশের ভাষা ও স্বাধীনতা দিবসের অমর্যাদা, আলবার্টা পার্লামেন্টে ৪ঠা এপ্রিল ২০১৭ নজিরবিহীনভাবে বাংলা নববর্ষকে স্বীকৃতি ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে মর্যাদা দেয়ার বিরোধীতাকারীদের অন্যতম ব্যক্তিরাই ইর্ষান্বিত হয়ে কমিউনিটিকে বিভাজনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মাননা দেয়ার নামে অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে তা বাতিল করা এবং একটি ভাল কমিউনিটি সেন্টার ক্রয়ের প্রায় চুড়ান্ত পর্যায়ে কৌশলে তা বাতিল করা সহ সদস্যদের মৌলিক অধিকারের বিষয়ে বিগত সাধারন সভাগুলোতে সোচ্চার ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহিদ। এতে সংগঠন ব্যবস্থাপনায় কোনরূপ পরিবর্তন না আসায় জাহিদ এসোসিয়েশনের  নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ দুটি  পদ থেকে ইস্তফা দেন এমনকি ২০১৮ তে তার সদস্যপদ নবায়নে ও বিরত থাকেন। তারপরও এধরনের মানহানিকর আগ্রাসী ও ধৃষ্টতামূলক একটি সিদ্ধান্তের কারন ও এর শেকর অনুসন্ধান শুরু করেছেন সাংবাদিক এবং বোদ্ধামহল.

এসোসিয়েশনের বিতর্কিত এ ব্যক্তিরা মূলত তিনতিনটি নির্বাচনকে কৌশলে অকার্য্যকর করেছে। এখন আইনী প্রক্রিয়া থেকে বাচার জন্য তাদের অধিকাংশদের নিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে।অতীতে যাদের দ্বারা পরিচালিত নির্বাচনকে তারা অবৈধ ঘোষনা করেছে তাদেরকেই আইনের বেড়াজালে পক্ষে টানার কুটকৌশল শুরু হয়েছে।কমিউনিটিকে বিভাজনের এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ