জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের উদ্যোগে সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত ॥ ১২/১৫ হাজার মুসল্লীর অংশগ্রহণ

June 16, 2018, 1:23 AM, Hits: 804

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের উদ্যোগে সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত ॥ ১২/১৫ হাজার মুসল্লীর অংশগ্রহণ

সালাহউদ্দিন আহমেদ (ইউএনএ): বিপুল উৎসাহে যথাযোগ্য মর্যাদা আর ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকায় ১৫ জুন শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধানার পর ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিশেষ আনন্দের দিন পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। এবছর নিউইয়র্কে ২৯টি রোজা পালন করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন অঙ্গরাজ্যে ৩০টি রোজা পালন করতে হয়েছে। চমৎকার আবহাওয়ায় নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকার একাধিক খোলা মাঠ, মসজিদ আর কমিউনিটি সেন্টারে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা হয়। ঈদের জামাত শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মুনাজাতে সমগ্র মুসলিম উম্মাসহ দেশ-জাতির মঙ্গল ও সমৃদ্ধি এবং দেশে দেশে নিপীড়িত-নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষায় 

মহান আল্লাহতায়ালার রহমত ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করা হয়। নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশীদের দ্বারা পরিচালিত বৃহত্তম মসজিদগুলোর অন্যতম কুইন্স বরোর জ্যামাইকায় অবস্থিত জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি)-এর উদ্যোগে স্থানীয় জ্যামাইকা হাই স্কুল মাঠে সকাল সোয়া ৯টায় উত্তর আমেরিকার সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিশু-কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ সর্বস্তরের ১২/১৫ হাজার মুসলিম নর-নারী একত্রে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন বলে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেছেন।

এই জামাতে ইমামতি ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন জেএমসি’র খতিব আলহাজ মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ এবং খুৎবা পাঠ করেন জেএিমসি’র অন্যতম পরিচালক ইমাম শামসে আলী। জেএমসি আয়োজিত ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে জেএমসি’র কর্মকর্তা ও মূলধারার রাজনীতিকরা উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।  এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সিটি প্রশাসন পাবলিক স্কুলে ছটি ঘোষণা করে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র বিল ডি ব্লাজিও প্রশাসন বছর দুই আগে মুসলমানদের দুই ঈদ যথাক্রমে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা’র দিন সিটির স্কুলগুলোতে ছটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়। খবর ইউএনএ’র। 

ঈদের জামাতের আগে জেএমসি’র কর্মকর্তাদের মধ্যে জেএমসি’র ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. এম বিল্লাহ ও সভাপতি খাজা মিজান হাসান এবং মূলধারার রাজনীতিকদের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার স্কট স্ট্রীঙ্গার, নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বীম্যান ডেভিড ওয়েপ্রীন ও নিউইয়র্ক সিটির স্থানীয় সিটি কাউন্সিলম্যান ররি ল্যান্সম্যান। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্কে ইউএস কংগ্রেশনাল ডিষ্ট্রিক্ট-৫ এর আসন্ন প্রাইমারী নির্বাচনে প্রার্থী বাংলাদেশী-আমেরিকান মিজান চৌধুরী, মূলধারার রাজনীতিক সেবুল উদ্দিন ও জেএমসি’র ইয়্যুথ ফোরামের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ হাসান। এই পর্ব পরিচালনা করেন জেএমসি পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী মনজুর আহমেদ চৌধুরী। 

এদিকে কানাডা ও ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সী, কানেকটিকাট, ম্যারিল্যান্ড, পেনসেলভেনিয়া, ভার্জেনিয়া, ওয়াহিও, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোরিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, প্রভৃতি অঙ্গরাজ্যে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এলাকার মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন। রোদের কারণে অনেক মুসল্লীকে মাথার উপর ছাতা ব্যবহার করতে দেখা যায়। 

প্রতিটি ঈদের জামাত শেষে নবীন-প্রবীণ, ছোট-বড় সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও কোলাকুলি করতে দেখা যায়। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে সর্বত্রই নেয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেই সাথে সিটি প্রশাসনেরও বিশেষ নিরাপত্তা লক্ষ্য করা যায়। ঈদের নামাজ আদায়ের স্থানগুলোর আশপাশের রাস্তায় ফ্রি গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা থাকায় দূর দূরান্ত থেকে শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা সপরিবারে ঈদের নামাজে শরীক হন। রং বেরং এর বাহারী পোশাক গায়ে নামাজিদের একত্রে ঈদের নামাজ আদায় ভীন দেশীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। সেই সাথে ঈদের মাঠে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। ঈদের দিনটি উইক ডে শুক্রবার থাকার পরও ঈদের নামাজের জায়াতগুলোতে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলিম নর-নারীকে যোগ দিতে দেখা যায়। অনেকে ঈদের নামাজ আদায় করেই কাজে চলে যান। অনেকে স্বপরিবারে বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘনিষ্টজনদের বাসা-বাড়ীতে গিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এছাড়া প্রবাসীরা ফোনে বাংলাদেশে ফোন করে স্বজনদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

নিউইয়র্কের উল্লেখযোগ্য ঈদের জামাতগুলোর মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল জ্যাকসন হাইটসের পিএস-৬৯ সংলগ্ন ৭৭ ষ্ট্রীটে নিউইয়র্ক ঈদ গাঁহ’র উদ্যোগে খোলা রাস্তার উপর ঈদুল ফিতরের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জ্যামাইকার আল আরাফা ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে স্থানীয় সুসান বি এন্থনী স্কুল মাঠে খোলা আকাশের নীচে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও  ইষ্ট এলমহার্স্ট জামে মসজিদ এন্ড মুসলিম সেন্টারের উদ্যোগে স্থানীয় পিএস ১২৭ স্কুলের প্লে গ্রাউন্ডসহ কুইন্সের জ্যামাইকার বাংলাদেশ মিশন (হাজী ক্যাম্প) মসজিদ, দারুস সালাম মসজিদ, হিলসাইড ইসলামিক সেন্টার, ফুলতলী ইসলামিক সেন্টার এন্ড মসজিদ, জ্যাকসন হাইটসের জ্যাকসন হাইটস ইসলামিক সেন্টার, মসজিদ আবু হুরায়রা, মোহাম্মদী সেন্টার, ওজনপার্কের আল আমান জামে মসজিদ, দারুস সুন্নাহ মসজিদ, আল ফোরকান মসজিদ, ব্রুকলীনের বাংলাদেশ মসুলিম সেন্টার, বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ, ম্যানহাটানের মদিনা মসজিদ, আসসাফা মসজিদ, আমেরিকান মুসলিম সেন্টার, এস্টোরিয়ার আল আমীন মসজিদ, গাউছিয়া মসজিদ, ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার জামে মসজিদ, বাংলাবাজার জামে মসজিদ, নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ প্রভৃতি মসজিদের উদ্যোগে খোলা মাঠে বা মসজিদ ভবনে ঈদুল ফিতরের একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: মিহির চৌধুরী

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ