সবজি বাগান করার এখনই সময়

June 9, 2018, 12:48 AM, Hits: 495

সবজি বাগান করার এখনই সময়

হ-বাংলা নিউজ : সবজি বাগান হচ্ছে একটি শখের বিষয়। অনেকের কাছে খাওয়া বড় নয়, শখটাই আসল। দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রায় সবকিছুই বাজার থেকে কিনে খাই। কিন্তু মনের চাহিদা কতটুকু মিটে? তাই কিছু শাক-সবজি আমরা নিজেরা চাষ করে খেতে পারি—যদি সে রকম সুযোগ ও সময় আমাদের হাতে থাকে। টবে শুধু ফুল নয়, চাষ করা যায় শাক-সবজিও। ঘরের বারান্দায় কিংবা কার্নিশে পছন্দমতো শাক-সবজির গাছ লাগানো যায়। তবে সবজির ভালো ফলনের জন্য দরকার সঠিক ব্যবস্থাপনা, সঠিক পদ্ধতিতে চাষ ও পরিচর্যা।

বাংলাদেশে রবি শস্য চাষের উপযুক্ত সময় শীতকাল হলেও নিউইয়র্কে ঠিক উল্টো। কেননা এখানে শীতকালে ঠান্ডা আর তুষারের তাণ্ডবে বড়বড় গাছগুলোও ফুল-পাতা ঝরিয়ে একদম উলঙ্গ হয়ে পড়ে। তাই নিউইয়র্কে সবজি চাষের উপযুক্ত সময় হচ্ছে গ্রীষ্মকাল তথা মে মাস। অর্থাৎ মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর চাইলেও আপনি আর কোনো সবজি বা গাছ জীবিত রাখতে পারবেন না। তাই চলুন আর দেরি না করে যাদের সুযোগ আছে এখনই লেগে যাই সবজি চাষে। আসলে গত বছর আমি সবজি চাষ করে নিজে খেয়ে আর আত্মীয়স্বজনদের বিলিয়ে অনেক আনন্দ পেয়েছি, তাই সবাইকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। এবার চলুন দেখি কীভাবে কী করা যায়। 

টবে সবজি চাষ পদ্ধতি কি রকম? 

গাছের আকার ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন সাইজের টব ব্যবহার করতে হবে। টবের নিচে ছিদ্র করে তলায় প্রথমে ১ ইঞ্চি ইটের সুরকি বা খোয়া, তার ওপরে ১ ইঞ্চি পচা গোবর সার দিতে হবে যাতে সহজেই অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যেতে পারে। টবে গাছ লাগানোর আগে ২ ভাগ দো-আঁশ মাটি ও ১ ভাগ পচা গোবর সার এবং এর সঙ্গে ১০০ গ্রাম টিএসপি ও ৫০ গ্রাম এমওপি সার ভালোভাবে মিশিয়ে টব ভর্তি করে ১০ থেকে ১২ দিন রেখে দিতে হবে। তবে গাছের ধরন ও টবের আকার-আকৃতির ওপর ভিত্তি করে সারের পরিমাণ কিছুটা কম বেশি হতে পারে। টবে মাটি ভরাট করার সময় টবের ওপর দিক থেকে ১ ইঞ্চি খালি রাখতে হবে। নার্সারি অথবা বাঙালি গ্রোসারি দোকান থেকে উন্নত মানের চারা, মাটি এবং সার কিনে এনে টবে লাগাতে পারেন কিংবা ভালো মানের বীজ কিনেও আপনি চারা তৈরি করে টবে লাগাতে পারেন।

যাদের বাসার সামনে অথবা পেছনে জায়গা আছে তারা বীজতলা তৈরি করে পছন্দমতো সবজি চাষ করতে পারেন। শাক-সবজির বীজতলার জন্য মাটি হতে হবে ঝুরঝুরে, হালকা অথচ পানি ধরে রাখার ক্ষমতা সম্পন্ন। মাটি চালুনি দিয়ে চেলে জীবাণুমুক্ত করে নেওয়া উত্তম। মাটি যদি এঁটেল হয় তাহলে বীজের অঙ্কুরোদগমের সুবিধার জন্য একভাগ বালি মিশিয়ে হালকা করে নিতে হবে।

কীভাবে বাগানের পরিচর্যা করবেন? 

মাটিতে বীজ বপনের আগে আগাছা থাকলে তা নিড়ানি দিয়ে খুঁচিয়ে তুলে ফেলতে হবে। টবে চারা জন্মালে চারার গোড়ায় যেন আঘাত না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, শাক-সবজির টবগুলোকে অবশ্যই আলো-বাতাস পায়—এমন জায়গায় রাখা দরকার। কিছুদিন পর পর গাছের গোড়ার মাটি নিড়ানি দিয়ে খুঁচিয়ে ঝুরঝুরে করে দিলে ভালো হয়। অনেক শাক-সবজির চারা, বিভিন্ন ধরনের পিঁপড়া বা পোকা-মাকড় নষ্ট করে, সে জন্য হেপ্টাক্লোর-৪০ পরিমাণ মতো দিয়ে পিঁপড়া ও পোকা-মাকড় নিবারণ করা যায়। অতিরিক্ত ঝড় বৃষ্টি, রোদ বা তাপ থেকে রক্ষা করার জন্য সাময়িকভাবে টব নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে।

সবজিতে উপকার

কুইন্স ভিলেজে নিজেদের বাড়িতে স্বামী কবি এ বি এম সালেহ উদ্দীনের সঙ্গে সাঈদা আখতার

কুইন্স ভিলেজে নিজেদের বাড়িতে স্বামী কবি এ বি এম সালেহ উদ্দীনের সঙ্গে সাঈদা আখতার

যেসব সবজি চাষ করে আপনি নিজের স্বাদ মেটানোর পাশাপাশি সুস্থ শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদান—দুটোই পেতে পারেন। যেমন লাউ, এই সবজি পছন্দ করেন না এমন বাঙালি খুব কমই আছেন। ঝিঙের প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য অংশের মধ্যে রয়েছে ০.৫ গ্রাম প্রোটিন, ৩৩.৬ মাইক্রো গ্রাম বিটা-ক্যারোটিন, ৫ মিগ্রা ভিটামিন সি, ১৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ২৭ মিলিগ্রাম ফসফরাস। মুলায় আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন তথা ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম ও লৌহ। ঢ্যাঁড়শে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিন, ভিটামিন ‘এ’ ও বিভিন্ন খনিজ পদার্থ রয়েছে। শিম একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ সবজি। করলা স্বাদে তিক্ত হলেও বাংলাদেশের সবার কাছে এটি প্রিয় সবজি হিসেবে পরিচিত। ১০০ গ্রাম ভক্ষণ যোগ্য করলায় ১.৫-২.০ ভাগ আমিষ, ২০-২৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১.৮-২.০ মিলিগ্রাম লৌহ এবং ৮৮.৯৬ মিলিগ্রাম খাদ্যপ্রাণ সি আছে। 

কচি মিষ্টি কুমড়া সবজি হিসেবে এবং পাকা ফল দীর্ঘদিন রেখে সবজি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। মিষ্টি কুমড়া ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণেও কাজ করে। শসা প্রধানত সালাদ ও সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। শসার প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য অংশে ৯৬ ভাগ জলীয় অংশ, ০.৬ গ্রাম আমিষ, ২.৬ গ্রাম শ্বেতসার, ১৮ মিলিগ্রাম গ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.২ মিলিগ্রাম গ্রাম লৌহ, ক্যারোটিন ৪০ মাইক্রোগ্রাম, খাদ্যপ্রাণ সি ১০ মিলিগ্রাম গ্রাম রয়েছে। লালশাক সবার কাছেই প্রিয় একটি পুষ্টিকর শাক। যেমন—আলতা পেটি, ললিতা, রক্তরাঙা, পিংকি কুইন, রক্তজবা ও স্থানীয় জাত। সারা বিশ্বে আলুর পরই টমেটো উৎপন্ন হয় সবচেয়ে বেশি। অধিকাংশ দেশেই টমেটো অন্যতম প্রধান সবজি। বাঙালি মাত্রই মরিচ খাবেই। মরিচের বীজ থেকে চারা গজাতে কিছুদিন সময় লাগে। সুতরাং বিচলিত হবেন না। বীজ থেকে চারা গজানো শুরু করলে চারা উঠিয়ে অন্য একটি টবে চারাটি লাগান। সব ধরনের মরিচের চাষ পদ্ধতি মোটামুটি একই। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ