নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনীতে বাংলাদেশীদের সপ্তম লবি ডে

March 23, 2018, 1:10 AM, Hits: 186

নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনীতে বাংলাদেশীদের সপ্তম লবি ডে

হ-বাংলা নিউজ :  আলবেনী (নিউইয়র্ক) থেকে ফিরে সালাহউদ্দিন আহমেদ: নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুলে হালাল ফুড, কিউনী ও সুনী-তে (ঈটঘণ ্ ঝটঘণ)-তে ঈদ হলিডে, রিলিজিয়াস গার্ব এবং ট্রাক্সি ড্রাইভার প্রটেকশন অ্যাক্ট সহ ৯ দফা এজেন্ডার ভিত্তিকে আলবেনীতে সপ্তমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসী গ্রুপ (বাগ)-এর লবি ডে। এই লবি ডে’র মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক ষ্টেটের ৫৭ জন অ্যাসেম্বলীম্যান ও ২৩ জন সিনেটরদের কাছে দাবীগুলো তুলে ধরা হয় বলে বাগ কর্মকর্তারা দাবী করেছেন।লবি ডে’র অন্যান্য দাবী-দাওয়ার মধ্যে ছিলো: নিউইয়র্ক মুসলিম আমেরিকান এডভাইজরী কাউন্সিল, ড্রীম অ্যাক্ট, ডাকা বিল, ক্লাইমেট কমিউনিটি প্রটেকশন অ্যাক্ট ও রিলিজিয়াস ফ্রিডম অ্যাক্ট।

 খবর ইউএনএ’র।বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসী গ্রুপ ইনক গত ১৩ মার্চ মঙ্গলবার রাজধানী আলবেনীতে দিনব্যাপী এই লবি ডে’র আয়োজন করে। এতে বাংলাদেশী কমিউনিটির নতুন প্রজন্মের একাধিক প্রতিনিধিসহ প্রায় ৯০ পেশাজীবি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আ্যাসেম্বলীম্যান ও সিনেটদের অফিস কক্ষে তাদের সাথে আলোচনায় মিলত হন এবং তাদের কাছে দাবী-দাওয়াগুলো তুলে ধরা হয়। পূর্ব নির্ধারিত আলোচনার সময় কয়েকজন অ্যাসেম্বলীম্যান ও সিনেটর অফিস কক্ষে উপস্থিত না থাকায় তাদের প্রতিনিধির কাছে দাবীদাওয়াগুলো তুলে ধরা হয়।

 বাংলাদেশী প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনাকালে অ্যাসেম্বলীম্যান  ও সিনেটরগণ উল্লেখিত দাবীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনে বিল পাশে যথাযথ ভূমিকা নেয়ার কথা জানান। সেই তারা নানা পরামর্শও দেন। অ্যাসেম্বলীম্যান ও সিনেটরদের কাছে দাবীদাওয়াগুলো তুলে ধরার সময় ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশী কমিউনিটি তথা মুসলিম কমিউনিটির অবস্থান ও অধিকার সম্পর্কে জোরালো তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিনিধি দলগুলোর দল নেতা ছিলেন নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা।এছাড়া ষ্টেট অ্যাসেম্বলী হাউজ চলাকালে দুপুরে বিরতীর পর অপরাহ্নে অ্যাসেম্বলীর কার্যক্রম শুরু হলে অ্যাসেম্বলীম্যান মাইক মিলার লবি ডে’র কথা হাউজে তুলে ধরেন। এসময় বাংলাদেশী-আমেরিকানরা অ্যাসেম্বলী হাউজে উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশী-আমেরিকানদের দাবীর প্রতি উল্লেখযোগ্য অ্যাসেম্বলীম্যানদের মধ্যে মাইকেল মিলার, ডেভিড ওয়েপ্রিন, নিক পেরী, লুইস আর সেপুলভেদা, ফিল রামস, রাফায়েল ইস্পীনাল, ফ্রানসিসকো ময়া, ইনেজ ডি ব্যারন, ফিলিস ওর্টিজ, উইলিয়াম স্কেবরো প্রমুখ তাদের সমর্থন জানান বলে বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসী গ্রুপ ইনক’র চেয়ারম্যান ইঞ্জনিয়ার কামাল ভূঁইয়া ইউএনএ প্রতিনিধিকে জানান।দুপুরে অ্যাসেম্বলীমান ও সিনেটরদের সৌজন্যে সিনেট হলের একটি কক্ষে মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়। এসময় অ্যাসেম্বলীমান ও সিনেটরগণ ও তাদের সহকারীরা বাংলাদেশী খাবার খেয়ে এসব খাবারের ভূয়শী প্রশংসা করেন। তারা বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।এদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গভর্নর এন্ড্র কুমোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসী গ্রুপ ইনক’র কর্মকান্ডের জন্য প্রক্লেমোশন প্রদান করা হয়।সংগঠনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কামাল ভুঁইয়া ও জেনারেল সেক্রেটারী মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ডেপুটি গভর্ণর ক্যাথি হকুল-এর কাছ থেকে প্রক্লেমোশনটি গ্রহন করেন।এর আগে বাগ কর্মকর্তারা ক্যাপিটাল ভবনে গভর্ণরের শিক্ষা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারী জামি ফ্র্যাংক-এর সাথে বৈঠকে মিলিত হয়ে লবি ডে’র দাবী-দাওয়া বিশেষ করে কিউনী ও সুনীতে হালাল ফুড সরবরাহের জোর দাবী জানান। এছাড়াও ষ্টট অ্যাসেম্বলীর স্পীকার কাল ই হিস্টিও সাথেও সাক্ষাৎ করেন বাগ-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা।বিকেলে ষ্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান রন কিম-এর উদ্যোগে বাগ এর লবি ডে’র দাবী-দাওয়া বিশেষ করে ট্রাক্সি ড্রাইভার প্রটেকশন অ্যাক্ট বিষয়ে ক্যাপিটাল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন।এসময় অ্যাসেম্বলীম্যান ডেভিট ওয়েপ্রিন, অ্যাসেম্বলীম্যান ক্লাইড ভ্যানেল, অ্যাসেম্বলীম্যান ব্রিয়ান বার্নওয়েল ছাড়াও বাগ এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কামাল ভুঁইয়া বক্তব্য রাখেন।বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসী গ্রুপ ইন্ক’র চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কামাল ভুঁইয়া ও জেনারেল সেক্রেটারী মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে জ্যামাইকা বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার পরিচালনা কমিটির সভাপতি খাজা মিজান হাসান সহ ৯০ প্রবাসী প্রতিকুল পরিবেশের মধ্যে বাংলাদেশী দুটি বাস যোগে আলবেনী গিয়ে বাংলাদেশী আমেরিকান লবি ডে-তে অংশ নেন।বাগ-এর সেক্রেটারী জেনারেল মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন জানান, ইতিমধ্যে ডেমক্র্যাট দলীয় ষ্টেট সিনেটর এন্থনী আভেলা জুনিয়র এবং ষ্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন ঈদের দুদিন ছুটি, ধর্মীয় পোশাকের বৈষম্য বিরোধী বিধি এবং ড্রিম অ্যাক্ট বিল অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টে উত্থাপন করেছেন। এছাড়া ড্রিমারদের উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ প্রদানের বিধি তৈরীর জন্যে দুটি বিল উঠিয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটর হোজে প্যারাল্টা এবং ষ্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান ফ্রান্সিসকো ময়া।জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা হতাশ নই, রীতি অনুযায়ী দেন-দরবার চালিয়ে যাচ্ছি।অতীতের দাবী-দাওয়ায় কাজ হয়েছে। আশা করছি আগামী দিনেও বাগ-এর দাবী-দাওয়ার ব্যাপারে সুফল পাবো।তিনি বলেন, চলতি বছর ২৩টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আমরা ৬৬ জন সিনেটর ও অ্যাসেম্বলীম্যান অথবা তাদের প্রতিনিধির সাথে বৈঠক করেছি। প্রতিটি গ্রুপের দলনেতা ছিলো নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি। মূলত নতুন প্রজন্মকে যোগ্য করে তুলতে এবং তাদের সমস্যা তাদের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরাও ছিলো এবারের লডি ডে’র অন্যতম লক্ষ্য। তারা লবি ডে’র দাবী-দাওয়া বিস্তারিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরে এসব দাবী কেন জরুরীভাবে তা পূরণ করা প্রয়োজন তার ব্যাখ্যা করেছে।

জয়নাল আবেদীন বলেন, অধিকাংশ জনপ্রতিনিধিই আমাদের দাবীর সাথে সংহতি প্রকাশ এবং দাবী-দাওয়াগুলো যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। বাগ-এর লবি ডে’র এটিই বড় সাফল্য।লবি ডে’র বিভিন্ন গ্রুপে যারা দলনেতা বা গ্রুপ কো-অর্ডিনেটর ছিলেন তারা হলেন: উম্মা মাসুম, মালিহা গুল, রাহাত ইসমাইল, সাহিমা আমীন, দীনা উদ্দিন, সুবাহ তাসনিম, ফাইজা তাহসীন, মালিহা জেবা, অনিকা জেবা, মাহির কামাল, সামিহা নাজিম, শাহজাহান আলম,রাশনী আলম, অতিয়া ফারজানা আলী, নূর জাহান মোহাম্মদ, ফয়সাল বিন নূর, তানজিনা আহমেদ, শামীনা রহমান, আবীদ রহমান, উম্মায়া খাদিজা, ইফতেখার সবুর, ইকলামুল হক ও মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ।সমাপনী অনুষ্ঠানে লবি ডে-তে অংশগ্রহণকারী নতুন প্রজন্ম সহ কমিউনিটি সেবা সহ বাগএর কর্মকান্ডে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য সেক্রেটারী জেনারেল মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন সহ নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার এম রহিম, সার্জেন্ট এট আর্মস মোহাম্মদ সাবুল উদ্দিন, বোর্ড অব ডাইরেক্টরের সদস্য সাহানা মাসুম, দিলরুবা চৌধুরী (শোভন), আব্দুস সাত্তার, আদিল মাহমুদ, সেলিনা আকতার ও সাবেক সেক্রেটারী জেনারেল ড. জাহাঙ্গীর কবীরকে প্ল্যাক প্রদানের মাধ্যমে বিশেষ স্বীকৃতি জানানো হয়। বাগ-এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কামাল ভুঁইয়া সহ কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্টদের হাতে সার্টিফিকেট/প্ল্যাক তুলে দেন।

এছাড়াও ইঞ্জিনিয়ার কামাল ভুঁইয়া হাতে প্ল্যাক তুলে দেন সেক্রেটারী জেনারেল মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।উল্লেখ্য, দু’বছর আগে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে পাশ হওয়া আইন অনুযায়ী এই সিটির সকল পাবলিক স্কুল-কলেজে দুই ঈদের দিন ছুটি ঘোষিত হয়েছে। সেই বিধি পুরো অঙ্গরাজ্যে পাবলিক স্কুল-কলেজে প্রসারিত করতে চাচ্ছেন বাগ সহ মুসলিম সম্প্রদায়।বিশেষ করে কিউনী ও সুনী-তে (ঈটঘণ ্ ঝটঘণ)-তে ঈদ হলিডে অন্যতম দাবী।আরো উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ হচ্ছে ষ্টেট সিনেট। এর সদস্য সংখ্যা ৬৩। এরমধ্যে ডেমক্র্যাট ২১ আর রিপাবলিকান দলীয় সদস্য ৩১। অপরদিকে ষ্টেট অ্যাসেম্বলীতে ১০৪ আসন নিয়ে ডেমক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। রিপাবলিকানদের আসন-৩৭। 

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ