নানা ষড়যন্ত্রের কারণে আশানুরূপ সাফল্য আসেনি : ফরাসত আলী

January 7, 2018, 7:15 PM, Hits: 543

নানা ষড়যন্ত্রের কারণে আশানুরূপ সাফল্য আসেনি : ফরাসত আলী

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে স্থাপিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ পরিচালন মুনাফা করেছে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। যা চতুর্থ প্রজন্মের নতুন স্থাপিত ৯টি ব্যাংকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

ব্যাংকগুলো থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, নতুন স্থাপিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে ইউনিয়ন ব্যাংক। তাদের মুনাফার পরিমান ২৩০ কোটি টাকা। এনআরবি কমার্সিয়াল ব্যাংক মুনাফা করেছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাদের মুনাফার পরিমান ২০২ কোটি টাকা। এছাড়া নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে মুনাফার দিক থেকে ৩য় অবস্থানে থাকা সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংক ১৮২ কোটি টাকা, ৪র্থ অবস্থানে থাকা এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেড ১৬১ কোটি টাকা, ৫ম অবস্থানে থাকা মধুমতি ব্যাংক ১৫১ কোটি টাকা, ৬ষ্ঠ অবস্থানে থাকা মিডল্যান্ড ব্যাংক ১২০ কোটি টাকা, ৭ম অবস্থানে থাকা মেঘনা ব্যাংক ১১০ কোটি টাকা এবং ৮ম অবস্থানে থাকা এনআরবি ব্যাংক গত বছরে ৯৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। আর নতুন ব্যাংক গুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম মুনাফা করেছে ফার্মার্স ব্যাংক ২৬ কোটি টাকা।

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালন মুনাফায় ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে ব্যাংকটির সদ্য অবসরে যাওয়া প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে বলেন, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ২০১৩ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই চতুর্থ প্রজন্মের নতুন ৯টি ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা করে আসছিলো। কিন্তু ২০১৭ সালে ব্যাংকের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারের ফলে ব্যাংকটি সম্পর্কে জনমনে আস্থা সঙ্কট তৈরী হয়। যার ফলে ২০১৭ সালে ব্যাংকের মুনাফায় আশানুরূপ সাফল্য আসেনি।

ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী বলেন, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের মোট ডিপোজিটের পরিমান ছিল ৪৭১১.৮২ কোটি টাকা, ঋণ প্রদান করা হয় ৪২৯৫.০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপী ঋনের পরিমান ছিল ১.৮১%। 

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ৭০১ কোটি টাকা ঋণে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগটি আদৌ সত্য নয়। খেলাপী ঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করেই সকল ঋণ প্রদান করেছে ব্যাংক। ঋণ প্রদানে কোন অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। নির্ধারিত সময়ে কেউ কেউ ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় খেলাপি ঋণ বেশী মনে হচ্ছে। এর মধ্যে অনেকেই সহসায়ই ঋণ পরিশোধ করতে সমর্থ হবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ওয়াল্ড ব্যাংকের খেলাপী ঋনের পরিমান ছিল ৫%। ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী বলেন, আসলে ব্যংকের বিরুদ্ধে সবই ষড়যন্ত্র। একদিন আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। এত দিন আমি মুখ খুলিনি। সময় এসেছে সত্য উদঘাটনের।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আগামী ২০২১ এ মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ এ উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে অঙ্গীকার তা পূরণ করে দেশকে স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক।

ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে জনগণকে অর্থনৈতিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। এই লক্ষ্যে ব্যাংক ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬১টি শাখা স্থ’াপন করেছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে কোন ব্যাংকের শাখা নেই সেসব অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করে স্বল্প আয়ের মানুষের আর্থিক সেবা ও তাদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তার সুযোগ বিস্তৃত করেছে। তিনি জানান, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ইতোমধ্যে পাঁচ’শ এজেন্ট ব্যাংকিং পয়েন্ট চালু করেছে। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষ সঞ্চয়ী একাউন্ট, পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা পাঠানো, ঋণ প্রদান, ইউটিলিটি বিল পরিশোধসহ নানা আর্থিক সুবিধা ভোগ করছেন। প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এজেন্টদের সাথে ব্যাংকের নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং মডেল অত্যন্ত ফলপ্রসু প্রমাণিত হয়েছে। আগামী তিন/চার বছরের মধ্যে দেশের ৫৭ হাজার গ্রামে ব্যাংকের সেবা পৌাছানোর লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের সাথে ব্যাংকের এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বিশ্ব বিখ্যাত সংবাদপত্র ওয়াল ষ্ট্রিট জার্নালে সম্প্রতি এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের সেবার প্রশংসা করে একটি প্রতিবেদন ছেপেছে। এজেন্ট ব্যাংকিং মডেল বাংলাদেশের স্বল্প আয়ের মানুষের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বলে ওয়াল ষ্ট্রিট জার্নালের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ব্যাংকের অন্যতম পরিচালক ড. নুরান নবী ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে বলেন, চতুর্থ প্রজন্মের নতুন ৯টি ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্যই একটি কুচক্রীমহল ওঠে পড়ে লাগে। চক্রটি নানা কূটকৌশলে ব্যাংকটি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। তাদের সে খায়েশ কখনো পূরণ হবে না। সকল ষড়যন্ত্র নস্যাত করে ব্যাংকটি তার কাঙ্খিত লক্ষে এগিয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ