সৈয়দা ইকবাল মান্দ-বানুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির তীব্র নিন্দা প্রকাশ

April 13, 2017, 5:51 AM, Hits: 1008

সৈয়দা ইকবাল মান্দ-বানুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির তীব্র নিন্দা প্রকাশ

হ-বাংলা নিউজ :বাংলাদেশের জীবন্ত ইতিহাস বেগম সৈয়দা ইকবাল মান্দ-বানুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসের যেকোন সময়ের নির্মমতাকে হার মানিয়েছে। সরকার হত্যা, গুম, গ্রেফতার, জ্বালাও-পোড়াও থেকে শুরু করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের স্বাভাবিক জীবন অনিশ্চিত করে তুলতে যে কোন পন্থা অবলম্বন করছে।এমনকি সামাজিক কর্মকান্ডে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধেও সরকারের স্টীমরোলার চালাতে কুণ্ঠিত হচ্ছেনা তারা। বাংলাদেশের জীবন্ত ইতিহাস বেগম সৈয়দা ইকবাল মান্দ- বানুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।বাহ্যিক নাটকীয় দোষ যাই বলা হচ্ছে, মূলত: অন্তর্নিহিত কারণ হচ্ছে তাঁরা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী এবং শাশুড়ি; এমনটিই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।বিশেষজ্ঞদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকার আসন্ন নির্বাচনে খালি মাঠে গোল দিতে যাতে জিয়া পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত কোন আত্মীয়-স্বজনও বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সে পথের কাটা আগে-ভাগেই মামলা দায়েরের মাধ্যমে তারা সরিয়ে দিতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শরাফত হোসেন বাবু এবং সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন ভুইয়া সরকারের এ ধরনের নীচু, হীন ও নির্মম মানসিকতার তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানান। 

নেতৃদ্বয় বেগম সৈয়দা ইকবাল মান্দ-বানুর সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।শরাফত হোসেন বাবু এবং জসীম উদ্দিন ভুইয়া বলেন, সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুরমত একজন মানব দরদী সমাজসেবক বাংলাদেশে বিরল। তিনি সারাজীবন মানুষের সেবায় নিবেদিত ছিলেন। ইকবাল মান্দ বানুর মত একজন স্বার্থত্যাগী মানুষের বিরুদ্ধে সরকারের অবৈধ মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।নি¤েœ ইকবাল মান্দ বানুর মানবদরদী কর্মজীবনে স্বীকৃতির কিছু চিত্র তুলে ধরা হল:

সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু’র সংক্ষিপ্ত জীবনী

বেগম সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু ১৯৪১ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মরহুম সৈয়দ নুরুল আবসার ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মাতা মরহুমা উম্মে মায়দুল ছিলেন বর্ধমানের বিখ্যাত ব্যবসায়ী সৈয়দ পরিবারের কন্যা।সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর শৈশবকালেই নিপীড়িত মানুষের সেবা করার চরিত্র তাঁর মধ্যে প্রকাশ পায়। তিনি ইসলামিক ইতিহাসে মাস্টার ডিগ্রি লাভ করেন। বিবাহ সূত্রে রিয়াল এডমিরাল মাহবুব আলী খান সাহেবের সাথে আবদ্ধ হওয়ার পরে তার এই সেবাব্রতী মন আরও উৎসাহ পায়। বাংলাদেশের আর্ত মানবতার সেবায় তিনি তার সমস্ত জীবন উৎসর্গ করেছেন। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ৬৮ হাজার গ্রামেগঞ্জে, শহরের বহু হাসপাতালে,পথে প্রান্তরে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে আছে তাঁর সাহায্যের ছোঁয়া। ১৯৭৯ সালে সম্পূর্ণ নিজ অর্থে প্রতিষ্ঠা করেন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘সুরভি’। 

তিনি তাঁর এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অক্লান্ত ভাবে গরীব দু:খী, অসহায় মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। তার এই সেবার দুয়ার ২৪ ঘন্টাই উন্মুক্ত। সুরভি বর্তমানে বাংলাদেশের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সেবা ও শিক্ষামূলক সংগঠন। ২৫ লক্ষেরও বেশি শ্রমজীবী, অসহায়, ছিন্নমূল শিশু-কিশোর শিক্ষার আলোয়ে আলোকিত হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। ঢাকা শহর সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সুরভির কার্যক্রম সততা ও নিষ্ঠার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। সুরভির সুনাম দেশে বিদেশে অক্ষুণœ রয়েছে।সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৫ সাল দেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। এ ছাড়াও তিনি সমাজ সেবার জন্য বিভিন্ন পদকে ভূষিত হয়েছেন।

তার প্রাপ্ত পদক তালিকার মধ্যে রয়েছে-

* ১৯৮৫ সালে সামাজিক কর্মকান্ডের জন্য ‘কাজী মাহবুব উল্লাহ ট্রাষ্ট’ স্বর্ণপদক লাভ করেন।

* ১৯৯৫ সালে সমাজ সেবামূলক কাজের জন্য তিনি স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

* ১৯৯৭ সালে সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ‘নিপা শিশু ফাউন্ডেশন’ স্বর্ণপদক লাভ করেন।

* ১৯৯৯ সালে সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ‘অতীশ দিপঙ্কর’ পদক লাভ করেন।

* ২০০০ সালে সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ‘চন্দ্রাবতী’ পদক লাভ করেন।

* ২০০১ সালে সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ‘কমলকুড়ি’ পদক লাভ করেন।

* ২০০২ সালে সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ‘সন্ধানী’ থেকে পদক লাভ করেন।

* ২০০২ সালে সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ‘শিকড়ের সন্ধানে’ পদক লাভ করেন।

* ২০০৩ সালে সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ‘আমরা জিয়া হব’ পদক লাভ করেন।

* ২০০৪ সালে সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ‘ওম্যান ইন্টার প্রেনিয়ারস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ’ থেকে পদক লাভ করেন।

* ২০০৪ সালে সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ‘কমল’ পদক লাভ করেন।

* ২০০৪ সালে সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ অতীশ দীপঙ্কর গবেষণা পরিষদ থেকে তাকে ফেলো মেম্বারশীপ পদক প্রদান করা হয়।

* ২০০৫ সালে সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেন।

* ২০০৫ সালে সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ‘বেইস আজিজুর রহমান পাটোয়ারী’ পদক লাভ করেন।

সুরভির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছাড়াও সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু তাঁর সেবামূলক কর্মজীবনে বহু বছর তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি নৌবাহিনীতে কন্যা সন্তানদের জন্য Girls Guides সংগঠনের মত Sea Guides -এর সূচনা করেন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠিত করেন নৌবাহিনী লেডিস ক্লাব,নৌবাহিনীতে বিভিন্ন এলাকায় উচ্চ বিদ্যালয় সমূহ। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে তার অবদান আজও সকলে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এছাড়াও সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু বাংলাদেশ জাতয়ি মহিলা সংস্থার চেয়ারপার্সন ছিলেন। এখানে তিনি দু:স্থ মহিলাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্ম ব্যবস্থা প্রক্রিয়া চালু করেন যা বহুল প্রশংসিত হয়।তার জেষ্ঠ্য কন্যা শাহিনা খান, ভাইস চেয়ারম্যান ‘সুরভি’, জামাতা এয়ার কমডোর সৈয়দ শফিউজ্জামান (অব:)। কনিষ্ঠ কন্যা ডা. জোবায়দা রহমান, জামাতা জনাব তারেক রহমান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।  

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ