কানাডায় বাংলা নববর্ষকে ঐতিহাসিক স্বীকৃতি আলবার্টায় প্রবাসীদের আনন্দ বন্যা

April 5, 2017, 7:50 AM, Hits: 1791

কানাডায় বাংলা নববর্ষকে ঐতিহাসিক স্বীকৃতি আলবার্টায় প্রবাসীদের আনন্দ বন্যা

হ-বাংলা নিউজ :  আলবার্টা, কানাডা (৪, এপ্রিল ): আজ আলবার্টা পার্লাম্যান্টে নিউ ডেমোক্র্যাট ককাস এর সহযোগিতায় বাংলা নববর্ষকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রাদেশিক পরিষদে একটি বিল উত্থাপিত হয়। সণ্মানিত ডেনিস ওলার্ড, এমএলএ তা সংসদে উত্থাপন করেন। বিপুল করতালির মাধ্যমে একে স্বাগত জানান সন্মানিত আইন প্রনেতাগণ।

মাননীয় স্পিকার রবার্ট ই ওয়ানার বাংলা নববর্ষকে নিয়ে হাউজের গভীর আগ্রহের কথা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করেন। 

অধিবেশনের শুরুতে বাংলাদেশ  প্রেসক্লাব সেন্টার অব আলবার্টার সভাপতি, বাংলাদেশ  মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কানাডা ইউনিট নির্বাহী দেলোয়ার জাহিদ, বাংলাদেশ কানাডা এসোসিয়েশন অব এডমন্টন প্রতিনিধি এডভোকেট আরিফ খান, বাংলাদেশ হেরিটেজ অ্যান্ড এথনিক সোসাইটি অব আলবার্টা সভাপতি মাসুদ ভুইয়া, এমজেএমএফ বাংলাদেশ স্পোর্ট্স ক্লাব অব আলবার্টা, বাংলাদেশ হেরিটেজ মিউজিয়াম সহ-সভাপতি আনামুর রহমান, এশিয়া নিউজ ও ভিউজ প্রকাশক সাইফুর হাসান, জুলফিকার আহমেদ, ক্যালগেরীর এনডিপি নেতা বিনয় দে, বঙ্গ সোসাইটির তাপস হাওলাদার প্রমুখ নেতৃবৃন্দকে হাউজে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে বিশেষভাবে সন্মানিত করা হয়।

আলবার্টা পার্লাম্যান্টের অধিবেশন ও অতিথি গ্যালারী আজ কানায় কানায় পূর্ণ ছিলো। 

বাংলাদেশ  প্রেসক্লাব সেন্টার অব আলবার্টার আহবানে সাড়া দিয়ে নিউ ডেমোক্র্যাট ককাস বাংলা নববর্ষকে স্বীকৃতি দেয়ার এ উদ্যোগ নেয়। অধিবেশনের পূর্বে মাননীয় ইরফান সাবির কমিউনিটি এবং সমাজ সেবা মন্ত্রী বাঙ্গালী নেতৃবৃন্দের সন্মানে একটি মধ্যান্যভোজ সভার আয়োজন করেন। 

উদ্ভোধনী ভাষনে মন্ত্রী সাবির বলেন বহু সংস্কৃতির দেশ কানাডায় বাংলা নববর্ষকে স্বীকৃতি দানের মাধ্যমে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। আজ একটি ঐতিহাসিক দিন যা চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবে।

মন্ত্রীর উদ্ভোধনী ভাষনের পর ঐতিহাসিক এই গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঘটনা ও বাংলা নববর্ষকে প্রবাসে স্বীকৃতির প্রথম প্রয়াসের উপর সারগর্ভ আলোচনা করেন বাংলাদেশ  প্রেসক্লাব সেন্টার অব আলবার্টার সভাপতি দেলোয়ার জাহিদ.

দেলোয়ার জাহিদ তার ভাষনে আলবার্টা পার্লাম্যান্টে বাংলা নববর্ষের প্রস্তাবিত বিলটি আজকে উত্থাপনের সুযোগ সৃষ্টির পিছনে অভিবাসী সকল জৈষ্ঠ্য নাগরিকদের অতীত অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি জনাব সিদ্দিক হোসেন, মিসেস শাহানা হোসেন, প্রফেসর ড এম এ মান্নান (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য), ডঃ এনসি দাস, জনাব নেহাল উদ্দিন, ডাঃ আলী সহ সকলের অবদানের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশ কানাডা এসোসিয়েশন অব এডমন্টন,বাংলাদেশ হেরিটেজ অ্যান্ড এথনিক সোসাইটি অব আলবার্টা, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা ষ্টুডনেন্টস্ এসোসিয়েশন, এডমন্টন শহরের এমজেএমএফ বাংলাদেশ স্পোর্টস ক্লাব, বাংলাদেশ কানাডা এসোসিয়েশন অব কালগেরী ও ফোর্ট ম্যাকমেরীর অতীত এবং বর্তমান কর্তাদের সেবামূলক কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তিনি আলবার্টা ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও ব্যবসা বানিজ্য বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ এশিয়ায় উন্নয়নের একটি রোল মডেল উল্লেখ করে তাকে অধিকতর সহযোগিতার আহ্বান জানান।

ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ এ অনুষ্ঠানে অন্যানের মাঝে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট আরিফ খান, মাসুদ ভুইয়া, আনামুর রহমান, বিনয় দে, তাপস হাওলাদার প্রমুখ।

একটি ভিন্নমাত্রার উদ্দিপনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রানঢালা উচ্ছাস নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালী,  ক্যালগেরী, ফোর্ট ম্যাকমেরী ও অন্যান্য শহর থেকে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ সহ আগ্রহীরা এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

‘বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জানাতে আলবার্টা প্রিমিয়ার ভোজসভার ফটো সেসনে অংশ নেন।

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ